অর্থনৈতিক সমস্যা চার চেহারায়: চ্যালেঞ্জ ও উদ্যোগ Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ২:৩১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৩, ২০২৬ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিসহ নানা অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় বাংলাদেশও বেশ কড়াকড়ি পরিস্থিতিতে পড়েছে। এর ফলে দেশের অর্থনীতি নির্ভরশীল নানা ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যেমন- জ্বালানি-সমস্যা, মূল্যস্ফীতি ও ডলার সংকট। এই পরিস্থিতিতে সরকারের মূল লক্ষ্য হলো কর ফাঁকি কমানো, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা এবং অর্থনীতিকে সমন্বিতভাবে পুনরুদ্ধার করা। একই সঙ্গে তারা ঝুঁকি কমাতে ঋণনির্ভর অর্থনীতির পরিবর্তে বিনিয়োগ ভিত্তিক অর্থনীতির দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছে। তবে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মতে, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নতুন করে টাকা ছাপানো বা বাজারে অর্থ সঞ্চালন বাড়ানোর পক্ষে তারা নয়। তারা দেশের স্বল্পোন্নত থেকে উত্তরণের ব্যাপারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, এর জন্য প্রধানমন্ত্রী একটি চিঠি পাঠানোর পরিকল্পনা করেছেন যা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আলোচনায় আসবে। এই প্রক্রিয়া এখনো পর্যালোচনায় রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আগে কিছু বলা সম্ভব নয়। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং রণনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়তে পারে, যা বাংলাদেশে উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি করবে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার সম্ভবনা রয়েছে। পাশাপাশি, ডলার সংকট এবং দেশের অর্থনীতির সামষ্টিক পরিস্থিতি যেমন টাকার অবমূল্যায়ন, আমদানির খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে ও মূল্যবোধে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই ঘটনায় দেশের আমদানিনির্ভর পণ্যের দামও ক্রমশ বাড়ছে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে চলমান সংঘাতের কারণে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) ও রপ্তানিতে ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। এইসব পরিস্থিতি টিকিয়ে রাখতে সরকার নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। তারা বলছেন, তারা ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বের হয়ে বিনিয়োগ-ভীতিকে প্রাধান্য দিচ্ছে। আরও জানানো হয়েছে, তারা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করছে যাতে বিনিয়োগের পরিবেশ সুস্থিত হয়। পুঁজিবাজারেও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য বাজেটে বিশেষ নীতি নেওয়া হচ্ছে, যেমন- নারীকেন্দ্রিক উদ্যোগ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সমর্থন ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প চালু। বাণিজ্য ও রপ্তানি খাতে সরকারি পরিকল্পনা হলো, শুধুমাত্র গার্মেন্টসের ওপর নির্ভরশীল থেকে বের হয়ে, অন্যান্য খাতকে এগিয়ে নেওয়া। এর জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সুবিধা আরও সম্প্রসারিত হবে। এ ছাড়া, জাপান ও জার্মানির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে আলোচনা চলছে, বিশেষ করে এই সংকট মোকাবেলায় সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে। পুঁজিবাজারে সরকারের লক্ষ্য, নিয়মকানুন শিথিল করে বিনিয়োগের আস্থা ফিরিয়ে আনা। আগে নিয়মকানুনের ঘন ঘন পরিবর্তনের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। এখন তারা বলতে চান, অস্থিরতা কমাতে ও বাজারে বিশ্বাস স্থাপনে তারা দৃঢ়ভাবে নিয়ন্ত্রণ নীতির ওপর নজর দিয়েছেন। অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় অবশ্যই, সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র মানুষের কল্যাণ আগে বিবেচনায় নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে দেশের বিপর্যয় মোকাবেলা ও উন্নয়ন সম্ভাবনা আরও সুসংহত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, সরকারের এই উদ্যোগ এবং পরিকল্পনাগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন এক কঠিন সময়ের মুখোমুখি, তবে সমন্বিত ও সচেতন পদক্ষেপের মাধ্যমে তা মোকাবেলা করা সম্ভব বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। SHARES জাতীয় বিষয়: