অর্থনীতির জন্য ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জ পরিস্থিতি

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৩, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের কারণে বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ডলার সংকটের কারণে দেশের আমদানি ব্যয় বেড়েছে, যা অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার কর ফাঁকি রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি বিনিয়োগের পরিবেশ আরও উন্নত করতে কাজ করছে। তারা দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার জন্য ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো অর্থনীতি সচল করা এবং নির্বাচনি ইশতেহারে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা করা। তবে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট করে বলেছেন, সরকার নতুন করে টাকা ছাপিয়ে বাজারে টাকা প্রবাহিত করতে চায় না।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাংলাদেশে উৎপাদন ও পরিবহন খরচ আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে, যা মূল্যস্ফীতি আরও বৃদ্ধি করতে পারে। এর ফলে সাধারণ জনগণের ক্রয়ক্ষমতাও কমে যেতে পারে।

অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও ডলার সংকটের কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাচ্ছে এবং টাকার মূল্যহ্রাসের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেশের আমদানিকৃত পণ্যের দাম বাড়ায় সাধারণ জীবনযাত্রাও দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।

অপরদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সংঘাতের কারণে প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) পরিমাণ কমতে পারে এবং রপ্তানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই সব সংকটের মধ্যেও, প্রধানমন্ত্রী একটি চিঠি পাঠিয়ে বাংলাদেশের লোডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছেন, যাতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা হয়।

আর্থিক খাতের উন্নয়নে, সরকারের লক্ষ্য বাজেটে নারী উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া। রাজস্ব আহরণে অগ্রাধিকার দিয়ে আরও জনবান্ধব ও পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নানা পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। নয়াদশের বাজেটে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

বিনিয়োগের পরিবেশ সুদৃঢ় করতে সরকার নীতিমালার স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়াও, দেশের পুঁজিবাজার এবং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বড় ধরনের ডিরেগুলেশন পরিকল্পনা রয়েছে।

সামাজির সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বাজেট প্রণয়নের সময় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে সমাজের দরিদ্র ও বঞ্চিত শ্রেণীর জীবনমান উন্নত করতে কাজ চলছে।

রপ্তানি খাতে শুধুমাত্র গার্মেন্টসের ওপর নির্ভর না করে, এই খাতের বহুমুখীকরণে বেশ কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অন্যান্য সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতেও বন্ডেড ওয়ারহাউস এবং ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদার করতে, বাংলাদেশ জাপান ও জার্মানির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে এই সংকটের সময়ে তাদের সহযোগিতা চেয়ে থাকা হয়েছে।

পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রে, নিয়মকানুন পরিবর্তনের মাধ্যমে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানোর কাজ চলছে। আগে নিয়ম জারির অপ্রয়োজনীয় জটিলতা ও অনিয়মের কারণে বিনিয়োগে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছিল, তা নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে।

সবশেষে, বঞ্চিত ও দরিদ্র মানুষের জন্য বাজেট প্রথমে নির্ধারিত হচ্ছে। সরকার বিশ্বাস করে যে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও জীবনমান উন্নত হবে, এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা কমে আসবে।