সারাদেশে অভিযান চালিয়ে ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ লিটার তেল উদ্ধার

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৭:৩৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২৬

সরকার জ্বালানি মজুতদারি ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রচেষ্টা strengthening করছে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং বিভিন্ন জায়গায় অবৈধভাবে মজুতকৃত জ্বালানি তেল উদ্ধার করার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সারাদেশে অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যে প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ ও উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি, রাশিয়া থেকে ছয় লাখ টন ডিজেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রচুর তেল মজুতদারীদের ধরতে সরকার লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে। এই সব তথ্য জানিয়েছে গতকাল সোমবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে।

সোমবার (৩০ মার্চ) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরেন জ্বালানি বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী। তিনি উল্লেখ করেন, এখনও অনেক মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কিনে রাখছেন, যা বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। তবে সরকারের আশ্বাস, দেশের চাহিদার তুলনায় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। এদিকে, দেশে বড় আকারে জ্বালানি তেলের মজুতদারি ও পাচার বন্ধ করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তারা জানিয়েছেন, ইন্দোনেশিয়া থেকে আরও দুই কার্গো জ্বালানি তেল আসছে। এছাড়া, রাশিয়া থেকে ছয় লাখ টন ডিজেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সান্ধান ওয়েভার (নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আবেদন) চিঠি পাঠানো হয়েছে, যা ঈদের পরে পাঠানো হয়েছিল। এখন এর জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে সরকার।

অপরদিকে, রাশিয়া থেকে ডিজেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে। বাংলাদেশ এরই মধ্যে ভারতের মতো আমদানির জন্য ওয়েভার পেয়েছে, এবং ঈদের আগের দিন রাতে আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে বৈঠক হয়, যেখানে বাংলাদেশকে যাতে একই ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়, তার জন্য বলা হয়। তারা বলেছেন, রাশিয়া থেকে অন্তত দুই মাসের বা ৬ লাখ টনের ডিজেল আমদানির অনুমতি চাওয়া হয়েছে, এর জন্য এখন পাশ্চাত্য দেশ থেকে অনুমতির অপেক্ষায় আছে।

অবৈধ তেল মজুতদার ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের ইতিমধ্যেই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। যারা এই ধরনের অপরাধের বিষয়ে তথ্য দেবে, তাদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও পরিচয় গোপন রাখা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া ও বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পুরস্কার প্রদান প্রসেস যথাযথ অনুমোদন ও যাচাই করে সম্পন্ন হবে। পুরস্কার পেতে হলে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে হবে। পুরস্কারের জন্য আর্থিক অনুদান সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে এবং এই সুযোগ দেশের সব নাগরিক, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার জন্য উন্মুক্ত। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ জনগণকেও অবৈধ তেল মজুত ও পাচার রুখতে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।