চট্টগ্রামে জ্বালানি তেলের সংকট ও ভোগান্তি শীর্ষে

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৭:৩৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২৬

চট্টগ্রামে জ্বালানি তেলের সংকট এতটাই গভীর হয়ে উঠেছে যে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত তেল মিলছে না, আর পাম্পগুলোতে ঝুলছে নানা নোটিশ — ‘অকটেন নেই’ বা ‘তেল নেই’। সমস্যা মোকাবিলা করতে জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ কঠোর অবস্থান নেওয়ায় অনেক পাম্পে অবৈধভাবে তেল বিক্রি বন্ধ করতে কার্যকারিতা বাড়ানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার জন্য ওই এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে নিয়মনীতি মানা জরুরি করেছে প্রশাসন, যাতে কেউ অবৈধ বিক্রির পথ না খুঁজে পায়। এর পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে তদারকিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ট্যাগ অফিসারদের। ঈদপরবর্তী সময়ে চাহিদার তুলনায় জ্বালানি সরবরাহ অনেক কম থাকায় এই সংকট তীব্রতর হয়েছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে মোটরসাইকেল চালকসহ বিভিন্ন যানবাহনের ওপর। অনেক যানবাহনের চালকদের জন্য অন্ধকারের মতো এই পরিস্থিতি দিন দিন জটিলতর হচ্ছে।

জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈধ কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কোনো যানবাহনে তেল দেওয়া হবে না। রোববার থেকে তারা এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা শুরু করেছেন। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের ক্ষেত্রে, হেলমেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং বৈধ কাগজ না থাকলে অকটেন বিক্রি নিষেধ করা হয়েছে। অন্যান্য যানবাহনের চালকদেরও এখন লাইসেন্স নিয়ে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে হচ্ছে। এ সব বিষয় সমন্বয় করে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন তদারকি চালাচ্ছে।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির সরবরাহে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর ফলস্বরূপ, দেশের বাজারে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়ে ওঠে। অনেক ক্রেতা অতিরিক্ত জ্বালানি কিনতে শুরু করলে, সরকার ৬ মার্চ থেকে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করে। তবে, ঈদের আগে এই রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক মনে হয়।

কিন্তু ২৩ মার্চের পরে আবারও চট্টগ্রামের অনেক পাম্পে তেলের সংকট দেখা দেয়। ফলে সব চেয়ে বেশি ভুগতে থাকেন মোটরসাইকেল চালকরা। বর্তমানে বেশ কয়েকটি পাম্পে নির্ধারিত পরিমাণে তেল বিক্রি হলেও বেশিরভাগ স্থানে তেলের আরও সংকট দেখা গেছে। জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগে মোট পেট্রোলপাম্পের সংখ্যা ৩৮৩টি, যেখানে এজেন্ট ডিস্ট্রিবিউটর ৭৯৯ জন এবং প্যাকড পয়েন্ট ডিলার ২৫৫ জন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম নগরীতে ফিলিং স্টেশন রয়েছে ৪৬টি, তবে বেশিরভাগে দীর্ঘ সময় ধরে তেল মিলছে না।

ফিলিং স্টেশনের মালিকরা জানিয়েছেন, আগের চেয়ে অর্ধেকেরও কম জ্বালানি ডিপো থেকে পাওয়া যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে রেশনিং পদ্ধতিতেই বিক্রি চালিয়ে যেতে হচ্ছে। আবার, ঈদের ছুটিতে ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ডিলাররা সময়মতো পে-অর্ডার পাঠাতে পারেননি, যার ফলে ডিপো থেকে তেল উত্তোলনেও সমস্যা হয়েছে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে দেখা গেছে, বেশিরভাগ পাম্পে ‘অকটেন নেই’ বা ‘তেল নেই’ লেখা বিজ্ঞপ্তি ঝুলছে। এর মধ্যে কিছু পাম্পে তেল পাওয়া গেলেও, সেখানে এখন মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন। চকবাজার, বহদ্দারহাট, প্রবর্তক মোড়, কাতালগঞ্জ, ষোলশহর, লালখান বাজার ও সিআরবি মোড়ের পাম্পগুলোতে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। আগে যেখানে অনেক পেট্রোলপাম্প ২৪ ঘণ্টা বিক্রি চালু রাখতেন, এখন সেখানে নির্দিষ্ট সময়ে বিক্রি চালানো হচ্ছে। কিছু পাম্পে আজও ত pilotes, হলে অনেক সময়ের জন্য তেল মিলছে না, ফলে কর্তৃপক্ষের সক্ষমতাও হিমশিম খাচ্ছে।

লালদীঘির পাড়ের সিরাজুল হক অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে সোমবার দুপুরে দেখা গেছে, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো মোটরসাইকেলচালকরা। তবে বিকেল ৫টার দিকে ওই পাম্প বন্ধ দেখা গেছে, যেখানে আগে সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত তেল বিক্রি হত।

নগরীর পেট্রোলপাম্পের অনেক কর্মকর্তার মতে, তাদের পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি তেল বিক্রির পর্যবেক্ষণ করছেন। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক জানান, বিশৃঙ্খলা এড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং ট্যাগ অফিসাররা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। এই কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন।