তামাকে কর কাঠামো সংস্কারে জোর, টেকসই নীতির দাবি

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ১:০৫ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৩, ২০২৬

তামাক খাতে করনীতি সহজ, স্বচ্ছ, পূর্বানুমানযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হওয়া প্রয়োজন

বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এমন একটি বাস্তবসম্মত কাঠামো

দরকার যা রাজস্ব আদায় বজায় রাখার পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা ও সামগ্রিক অর্থনীতিকেও

সহায়তা করবে।

বুধবার (০১ মার্চ) রাজধানীর বনানীতে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) কার্যালয়ে

‘তামাক কর: স্বল্পমেয়াদি রাজস্ব বনাম দীর্ঘমেয়াদি টেকসইতা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায়

এসব বিষয় উঠে আসে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ংয়ের

একজন প্রতিনিধি। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন পিআরআইর গবেষণা পরিচালক ড. বজলুল হক খন্দকার

এবং আলোচনা সঞ্চালনা করেন পিআরআইর মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান। মূল প্রবন্ধে

বলা হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে তামাক খাতে কর ও মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও রাজস্ব

আয়ের প্রকৃত প্রবৃদ্ধি কমেছে। ২০২৪ সালের জুন ও ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কর ও মূল্য

বৃদ্ধির ফলে বাজারে সিগারেট বিক্রি কমে যায়, যার প্রভাবে রাজস্ব বৃদ্ধি সীমিত হয়ে

পড়ে।

প্রতিবেদনের তথ্যে উল্লেখ করা হয়, দেশে তামাকের ওপর করের হার প্রায় ৮৩ শতাংশে

পৌঁছেছে, যা বিশ্বে অন্যতম উচ্চ। এই অবস্থায় শুধু কর বাড়িয়ে রাজস্ব বাড়ানোর সুযোগ

সংকুচিত হয়েছে। পাশাপাশি আকস্মিক কর ও মূল্য সমন্বয় বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে এবং

অবৈধ বাণিজ্য বিস্তারের সুযোগ তৈরি করছে।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, রাজস্ব আহরণ ও বাজার স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য

রাখতে একটি কাঠামোগত ও পূর্বানুমানযোগ্য করনীতি জরুরি। ঘন ঘন কর ও মূল্য পরিবর্তন

ভোক্তাদের নিম্নমূল্যের পণ্যের দিকে ঠেলে দেয় এবং বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ায়। তারা আরও

উল্লেখ করেন, বিদ্যমান বহুস্তর কর কাঠামো জটিল হওয়ায় রাজস্ব পূর্বাভাস দুর্বল হয়ে

পড়ে। এ কারণে ধাপে ধাপে মূল্যভিত্তিক কর পদ্ধতি থেকে সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতিতে

রূপান্তরের সুপারিশ করা হয়, যা বাস্তবায়নে সহজ এবং রাজস্ব আদায়ে সহায়ক।

অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানো, বাজার তদারকি জোরদার

করা এবং উৎপাদন পর্যায়ে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বক্তারা সতর্ক করেন, বর্তমান কাঠামোর কারণে বৈধ উৎপাদকদের মুনাফা কমে যাওয়ায় অবৈধ

বাণিজ্য তুলনামূলক বেশি লাভজনক হয়ে উঠছে।

সার্বিকভাবে তারা মনে করেন, টেকসই প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ সহায়তা এবং খাতের স্থিতিশীলতা

নিশ্চিত করতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, স্বচ্ছ ও দূরদর্শী তামাক কর কাঠামো এখন সময়ের

দাবি।