মধ্যপ্রাচ্য সংকটে করাচি বন্দরে পণ্য খালাসে রেকর্ড কার্যক্রম Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৭:৩৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২৬ ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ও বন্দরগুলোতে এখন স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে ভৌগোলিক সুবিধার কারণে পাকিস্তানের করাচি বন্দর এখন নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ার ফলস্বরূপ বৈশ্বিক শিপিং কোম্পানিগুলো তাদের রুট পরিবর্তন করে করাচি বন্দরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রান্সশিপমেন্ট হাব হিসেবে ব্যবহার করছে। এর ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বন্দরে পণ্য খালাসের রেকর্ড তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নিক্কেই এশিয়া একেবারে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে। পাকিস্তানের সমুদ্রবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রি মুহাম্মদ জুনাইদ আনোয়ার চৌধুরী জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের পুরো বছর ধরে করাচি বন্দরে প্রায় ৮ হাজার ৩০০ টি ট্রান্সশিপমেন্ট কনটেইনার পরিচালিত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে মাত্র ২৪ দিনে ৮ হাজার ৩১৩টি কনটেইনার খালাস সম্ভব হয়েছে। এছাড়া, দুবাই ও সালালাহর মতো বড় বন্দরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায়, মায়ের্স্ক ও কস্কোর মত আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো এখন করাচির দিকে ঝুঁকছে। বিশ্লেষকদের মতে, করাচি বন্দরের এই দ্রুতগতির কার্যক্রমের পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা ও ইরানের জলপথ বন্ধের কারণে, ২ মার্চের পর থেকে আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনগুলো তাদের রুট পরিবর্তন করে এই বন্দরে এগোচ্ছে। ফলে, দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়ে। পাকিস্তান সরকার এই পরিস্থিতির সুবিধা নিতে ১৮ মার্চ থেকে বন্দর চার্জে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় ঘোষণা করেছে, যা শিপিং কোম্পানিগুলোর জন্য এক দারুণ আকর্ষণ। অতিরিক্তভাবে, আফগানিস্তান সীমান্ত বন্ধ থাকায় করাচি বন্দরে পর্যাপ্ত স্থান ও সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপারেটররাও দ্রুত কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়ক হয়েছেন। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই সাময়িক সুযোগকে দীর্ঘমেয়াদে রূপ দিতে হলে পাকিস্তানকে স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণ করতে হবে। এতে দেশের রাজস্ব বাড়বে আর বৈশ্বিক বাণিজ্যেও দেশের পদমর্যাদা আরো দৃঢ় হবে। তবে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই দ্রুত অগ্রগতি দীর্ঘমেয়াদে করাচি বন্দরের জন্য কতটা স্থিতিশীল ও কার্যকর হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। SHARES অর্থনীতি বিষয়: