অভিযানে জব্দ ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৮ লিটার জ্বালানি তেল

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৭:৩১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রবেশের পর দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে। গত ৩ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতদারির বিরুদ্ধে এই বিপুলসংখ্যক অভিযান পরিচালিত হয়, যার ফলে ৩৭২৮৩৮ লিটার জ্বালানি আটক করা সম্ভব হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, এই অভিযানের সময় বিভিন্ন অবৈধ মজুতের অবস্থা উঠিয়ে আনতে গিয়ে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোল সহ বিপুল পরিমাণ জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল উদ্ধার হয়েছে ২৭১৩৭৪ লিটার, অকটেন ৩০হাজার ৯৬০ লিটার এবং পেট্রোল ৭ হাজার ৫৪ লিটার।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সচিবালয়ে সরাসরি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সারাদেশে মোট ৪৮২৪টি অভিযান চালানো হয়। এর ফলে ২ হাজার ৯টি মামলা দায়ের ও এক কোটি ách৯ লাখ ১৪৩ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। পাশাপাশি ২৪ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গত ১ এপ্রিল একদিনে ৩৮১টি অভিযানে ১৬৯টি মামলা ও ৮ লাখ ৮৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি একজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ওই দিনই উদ্ধার হয় ২৪ হাজার ৪৮২ লিটার ডিজেল, ১০ লিটার অকটেন ও ৩৯৫ লিটার পেট্রোলসহ মোট ২৫ হাজার ৫৩৭ লিটার জ্বালানি।

তেল সরবরাহ ও জ্বালানি সংকটের কোনও পূর্বাভাস নেই বলে নিশ্চিত করেছেন এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, দেশের বার্ষিক ডিজেল চাহিদা প্রায় ৩৫ লাখ টন এবং পেট্রোল ও অকটেন মিলিয়ে দৈনিক চাহিদা প্রায় ১২০০ টন। বর্তমানে আমাদের প্রোজেক্টেড মজুত ও আসা শিপগুলো সময়মতো পৌঁছাচ্ছে, ফলে কোনও সমস্যা হবে না।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে কিছু সরবরাহে জটিলতা সৃষ্টি হলেও বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগত জাহাজগুলো সময়ে আসবে, সেই প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

যদিও পেট্রোল পাম্পের কিছু সরবরাহে সমস্যা দেখা দিচ্ছে, কারণ পণ্য সরবরাহের চেইন অব্যাহত রয়েছে। এই ব্যাপারে তিনি বলেন, গত বছর যা সরবরাহ করা হয়েছিল, সেই একই পরিমাণ এখনো সরবরাহ অব্যহত আছে। মানুষের মাঝে প্যানিক বাইং এখনো আছ, সেটিই মাঝে মাঝেই সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।

অবশ্য, বর্তমানে ছয়টি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজের অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, এই মজুতের মধ্যে পাঁচটি এলএনজি এবং একটী ক্রুড আইটেম রয়েছে। এসব জাহাজের জন্য বিশেষ পরিস্থিতির বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অফিসিয়াল চিঠি পাওয়ার অপেক্ষা করছেন। তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে জি টু জি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পরিস্থিতি থাকলেও, ইরান থেকে পরিবহন সম্ভব হলে নতুন উৎস থেকে জ্বালানি আনা সম্ভব হবে। এই সকল বিষয়ে সরকার যখন অফিসিয়াল অনুমোদন পাবে, তখন এই সমস্যা সমাধান সহজ হবে।