বাংলাদেশের লেনদেন ভারসাম্য রক্ষায় ২ বিলিয়ন ডলার বিদেশি সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনা Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ২:৩৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২৬ মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপে মৌলিকভাবে মোকাবিলা করার জন্য বাংলাদেশ প্রয়োজন হলে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈদেশিক সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। রোববার (২৯ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় গভর্নর ড. মোস্তাকুর রহমান এ তথ্য তুলে ধরেন। সভায় ডেপুটি গভর্নরসহ ঊর্ধ্বতন ব্যাংকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। গভর্নর বলেন, “লেনদেনের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আমরা ২ বিলিয়ন ডলারের সহায়তার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।” তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ)-এর সাথে প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং অন্যান্য উৎস থেকে সহায়তা পাওয়ার জন্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। সভায় উপস্থিত সাংবাদিকেরা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির কারণে প্রবাসী আয়ে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা আশ্বাস দেন যে, আপাতত প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের মন্দার আশঙ্কা নেই। চলতি অর্থবছরের শেষে প্রবাসী আয় গত বছরের তুলনায় প্রায় ২ থেকে ২.৫ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেতে পারে—এমনআশাবাদ প্রকাশ করেন তারা। গভর্নর আরও জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন তিনটি প্রাধান্য দিচ্ছে—কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, এবং বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করা। তিনি বলেন, “বন্ধ কারখানাগুলো আমাদের জাতীয় সম্পদ, এগুলো সচল করতে ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।” এছাড়া, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার বিষয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, এবং আগামী জুলাই থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানত ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। অতিরিক্তভাবে, অসৎভাবে পাঠানো অর্থ উদ্ধার, খেলাপি ঋণের তালিকা প্রকাশ, ডিজিটাল লেনদেনের দারুণ বৃদ্ধি, এবং অর্থনৈতিক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন গভর্নর। এইসব উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল ও সুদৃঢ় করে তুলবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। SHARES অর্থনীতি বিষয়: