অস্থিরতার মাঝেও স্থিতিশীল বিটকয়েন ও ক্রিপ্টো গ্রহণে বাড়ছে আগ্রহ

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৭:৩৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১, ২০২৬

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক বাজার এখন ব্যাপক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে শেয়ারবাজার, বন্ড বাজারসহ অন্যান্য মূলধনী সম্পদগুলোর মূল্য বড় ধরনের ওঠানামা করছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে প্রতিশ্রুতিশীল স্থিতিশীলতা দেখাচ্ছে ডিজিটাল মুদ্রাগুলো, বিশেষ করে বিটকয়েন, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নতুন করে আশাবাদের সঞ্চার করছে। নিক্কেই এশিয়া এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যখন ঐতিহ্যবাহী বিনিয়োগ খাতগুলো ভয়ঙ্কর চাপের মুখে পড়েছে, তখন বিটকয়েনের মূল্য ধারাবাহিকভাবে ৬৫ থেকে ৭৫ হাজার ডলারের মধ্যে অবস্থান করছে। এর মধ্যে, ইরানে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগের সময়ের তুলনায় ২৪ মার্চ পর্যন্ত বিটকয়েনের মূল্য প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে, একই সময়ে বৈশ্বিক শেয়ার সূচকগুলো নেতিবাচক প্রবণতা দেখিয়েছে। এমএসসিআই এশিয়া প্যাসিফিক স্টক ইনডেক্স প্রায় ১২ শতাংশ কমেছে, আর মার্কিন ডলার সূচক বেড়েছে প্রায় ২ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ারবাজারের তুলনায় বিটকয়েন এখনো তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে আছে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এর মূল্য ওঠানামার ঝুঁকি অব্যাহত রয়েছে।

ওয়েব থ্রি এসজি এবং মার্সেনারি ক্যাপিটালের সহপ্রতিষ্ঠা গোহ হিং ইয়াও বলেন, গত অক্টোবরের পরে বিটকয়েনের দাম রেকর্ড ১ লাখ ১৮ হাজার ডলারে পৌঁছালেও তা পরবর্তীতে বড় অস্বাভাবিক পতনে নিমজ্জিত হয়। এই বছরের শুরুর থেকে এখন পর্যন্ত এর দাম কমে গেছে ২০ শতাংশের বেশি। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক বিনিয়োগকারী এই পরিস্থিতিকে ‘ক্রিপ্টো উইন্টার’ হিসেবে দেখছেন। তবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশার আলো হলো, সরকার ও বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ইতিবাচক মনোভাব এখনো অব্যাহত রয়েছে।

এক সময় ক্রিপ্টোকারেন্সিকে ভবিষ্যতের সোনা হিসেবে গণ্য করা হতো, যা অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময় Investors’ safety এর জন্য একটি বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হতো। সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বিটকয়েনের এই অবস্থান সেই ধারণাকে কিছুটা শক্তিশালী করেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো ক্রিপ্টো গ্রহণে শুরুর দিকে এগিয়ে ছিল, এবং চেইনালিসিসের ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বের শীর্ষ ২০টি ক্রিপ্টো গ্রহনকারী দেশের মধ্যে আসিয়ান অঞ্চলের ছয়টি দেশ রয়েছে—কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম।

মন্তব্যের হিসেবে, মূল্য পতনের ফলে অনেক বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলেও, প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ব্লকচেইন প্রযুক্তির ব্যবহার এখনো আগের মতোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে। এর কিছু মূল সুবিধা হলো: দ্রুত লেনদেন, যেকোনো সময়ের জন্য সহজগম্যতা এবং কম খরচ, যা আন্তর্জাতিক অর্থপ্রেরণে অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া প্রবাসী শ্রমিকেরা স্টেবলকয়েন ব্যবহারে আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্টেবলকয়েন সাধারণত ডলারের মতো স্থিতিশীল মুদ্রার সঙ্গে যুক্ত থাকে। ২০২৪ সালের হিসাবে, মোট ক্রিপ্টো লেনদেনের দুই-তৃতীয়াংশই এখন স্টেবলকয়েনের মাধ্যমে হয়। যদিও বৈশ্বিক রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার এখনো এক শতাংশের কম, তবে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এ প্রবণতাকে দ্রুত বাড়াচ্ছে।

তবে, এই অবস্থায় কিছু ঝুঁকি ও রয়েছে। অনেক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে বাজার ছাড়তে বাধ্য হন। কিন্তু তারপরও ব্লকচেইনের সুবিধা এবং অস্থিরতার মধ্যেও বিটকয়েনের টিকে থাকার ক্ষমতা বড় বিনিয়োগকারী ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আগ্রহ বাড়াচ্ছে।