ডিজিটাল সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ঈদ কার্ড হারিয়ে গেছে Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৪:০২ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৮, ২০২৬ আধুনিকতায় ছোঁয়া লেগেছে প্রত্যন্ত গ্রামেও। হাতে মোবাইল নেই, এমন পরিবার খুব কমই আছে। ঈদ এলে প্রেমিক-প্রেমিকা, প্রিয়জন, বন্ধু-বান্ধব সবাই ঈদ কার্ডের শুভেচ্ছা বিনিময় করত। এখন মেসেঞ্জার, ফেসবুকে, টুইটারে, ইন্সটাগ্রামে, টেরিগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় হচ্ছে। এখন আর পাড়া-মহল্লার মোড়ে মোড়ে, অলিগলিতে বাহাড়ি ঈদ কার্ডের দোকান চোখে পড়ে না। কার্ড কেনার জন্য ছোট শিশুরাও আর বায় না ধরে না। স্কুল খরচের টাকা বাঁচিয়ে ঈদ কার্ড কেনার আনন্দ এখন স্মৃতির অতল গহীনে হারিয়ে গেছে। মাইশা ইসলাম এ ব্যাপারে বলেন, ‘আগের মতো এত সময় কই, তা ছাড়া খুঁজে খুঁজে কার্ড বিতরণ করার দিন শেষ।’ ডিজিটাল যুগে কয়েক সেকেন্ডেই হাজারও মানুষের কাছে ‘কপি-পেস্ট’ করা শুভেচ্ছা পৌঁছে যায়।’ এক সময় ঈদ মানেই ছিল প্রিয়জনদের হাতে হাতে ঈদ কার্ড পৌঁছে দেওয়ার এক অদ্ভুত শিহরণ। আজ তথ্যপ্রযুক্তির কারণে সবকিছু বদলে গেছে, আধুনিকতার ছোঁয়ায় আমাদের উৎসবগুলো হয়ে ওঠেছে যান্ত্রিক। আমাদের বাবা-মায়েদের কিশোর বা তরুণ বয়সে রোজা শুরুর পর থেকেই শুরু হতো ঈদ কার্ড সংগ্রহের তোড়জোড়। পাড়ার মোড়ে মোড়ে বসত ছোট ছোট কার্ডের দোকান। কেউ বেছে নিতেন প্রাকৃতিক দৃশ্যের কার্ড, কেউবা নিতেন গ্লিটার মাখানো ঝকঝকে কোনো নকশা। নিজের হাতে কার্ডের ভেতরে দু-এক লাইন শুভেচ্ছা বাণী লেখা আর নিচে নাম লিখে দেওয়া- সে এক অন্যরকম পাওয়া। প্রিয় বন্ধু বা আত্মীয়ের হাতে সরাসরি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার মধ্যে যে আন্তরিকতা ছিল, তা আজকের হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার নীল টিকে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত উন্নতি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে সত্য; কিন্তু কেড়ে নিয়েছে অনেক প্রাণবন্ত ঐতিহ্য। এখন ঈদের শুভেচ্ছা মানেই একটি ফরোয়ার্ড করা মেসেজ, মেসেঞ্জারের ইমোজি কিংবা ফেসবুকে আপলোড করা একটি পোস্ট। ক্লিক করলেই শুভেচ্ছা পৌঁছে যাচ্ছে হাজার মাইল দূরে; কিন্তু সেই বার্তার পেছনে সময় দেওয়ার ধৈর্য কিংবা মনের টান আজ অনেকটা ম্লান। আমরা হয়তো সময় বাঁচাচ্ছি; কিন্তু অজান্তেই হারিয়ে ফেলছি সম্পর্কের সেই ‘ব্যক্তিগত পরশ’। দুঃখজনক হলেও সত্যি, আধুনিকতার চাকচিক্যের নিচে চাপা পড়ে গেছে আমাদের পূর্বসূরিদের সেই মায়াভরা ঈদ কার্ডের প্রচলন। আমরা অনেক কিছু উন্নত করতে পারি; কিন্তু শৈশব বা কৈশোরের সেই স্মৃতিগুলোকে তো আর আধুনিক করা যায় না। কার্ডের ভাঁজে লেগে থাকা সেই ভালোবাসা আজ কেবলই অ্যালবামের কোণে ধুলো জমা এক দীর্ঘশ্বাস। মা-বাবার কাছে যখন সেই দিনগুলোর গল্প শুনি, তখন বোঝা যায় আমরা কতটা যান্ত্রিক এক বৃত্তে বন্দি হয়ে পড়েছি। প্রযুক্তির অগ্রযাত্রাকে আমরা অস্বীকার করছি না, তবে ঐতিহ্যের এই মৃত্যু আমাদের কিছুটা রিক্ত করে দেয়। ডিজিটাল শুভেচ্ছা আসুক; কিন্তু হৃদয়ের মলাটে মোড়ানো সেই পুরোনো ঈদ কার্ডের আবেদন চিরকাল অমলিন থাকুক আমাদের স্মৃতির মণিকোঠায়। হয়তো একদিন আবার কোনো নতুন প্রজন্ম এই যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তি পেতে ফিরে তাকাবে সেই ফেলে আসা রঙিন দিনগুলোর দিকে। SHARES সারা বাংলা বিষয়: