ইরানে ১০ ‘বিদেশি গুপ্তচর’ গ্রেফতার

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ১:০৪ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৮, ২০২৬

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান তীব্র উত্তেজনা ও যুদ্ধাবস্থার মধ্যেই ১০ জন

‘বিদেশি গুপ্তচর’ গ্রেফতার করার দাবি করেছে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামি

বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। মঙ্গলবার ইরানের বার্তা সংস্থা ইসনা-র বরাতে

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি জানিয়েছে যে, দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজাভি

খোরাসান প্রদেশে বিশেষ গোয়েন্দা অভিযানের মাধ্যমে এই ব্যক্তিদের আটক করা হয়েছে।

আইআরজিসির গোয়েন্দা শাখা থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আটককৃতদের ‘ভাড়াটে এবং

বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের পরিচয় ও নাশকতামূলক পরিকল্পনার কথা উল্লেখ

করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গ্রেফতারকৃত ১০ জনের মধ্যে চারজন ইরানের অত্যন্ত ‘সংবেদনশীল

স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অবকাঠামো’র গোপনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজে লিপ্ত

ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার পর অত্যন্ত

সতর্কতার সাথে তাদের গ্রেফতার করা হয়। বাকি ছয়জন অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি

‘রাজতন্ত্রপন্থী সন্ত্রাসী’ গোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থেকে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড

পরিচালনা করছিলেন বলে দাবি করেছে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। যদিও আটককৃতদের জাতীয়তা

সম্পর্কে বিবৃতিতে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি, তবে তাদের কর্মকাণ্ডকে সরাসরি

বিদেশের মদতপুষ্ট এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বর্তমান এই গ্রেফতারের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন ইরান এক নজিরবিহীন সামরিক সংকটের

মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের শীর্ষ

নেতৃত্বসহ অসংখ্য সামরিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি ইরানের

নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সেই হামলায় আহত হয়ে বর্তমানে মস্কোর একটি

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এমন

পরিস্থিতিতে দেশের ভেতরে বিদেশি শক্তির অনুপ্রবেশ ও তথ্য পাচার রোধে ইরান সরকার এবং

তাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বিপ্লবী গার্ড বাহিনী তাদের বিবৃতিতে আরও জানিয়েছে যে, এই চক্রটি ইরানের অভ্যন্তরীণ

অস্থিতিশীলতা তৈরি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার মানচিত্র ও তথ্য বিদেশি শক্তির কাছে

পাচারের চেষ্টা করছিল। বিশেষ করে রাজাভি খোরাসান প্রদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়

তাদের তৎপরতা ধরা পড়ায় বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। আটককৃতদের

বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং এই চক্রের সঙ্গে

আর কারা জড়িত রয়েছে তা খতিয়ে দেখতে জোর তদন্ত চালানো হচ্ছে। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে

যে, সম্মুখ যুদ্ধের পাশাপাশি ইরানকে বর্তমানে অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা যুদ্ধের

মোকাবিলাও করতে হচ্ছে।