রাশিয়ায় চিকিৎসাধীন ইরানের নতুন নেতা মোজতবা খামেনি

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ১:০৪ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৮, ২০২৬

ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বর্তমানে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর

একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক সামরিক

হামলায় আহত হওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার লক্ষ্যে তাকে রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছে।

কুয়েতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জারিদার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা

হয়েছে। মূলত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ব্যক্তিগত আমন্ত্রণ ও বিশেষ

ব্যবস্থাপনায় তাকে মস্কো পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির

পুতিন ও মোজতবা খামেনির মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সেই

আলাপচারিতার পরপরই ওই দিনই রাশিয়ার একটি বিশেষ সামরিক বিমানে করে তাকে মস্কো নিয়ে

যাওয়া হয়। এই পদক্ষেপটি বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে ইরান ও রাশিয়ার মধ্যকার সুদৃঢ় ও

কৌশলগত মিত্রতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

মোজতবা খামেনির আহত হওয়ার প্রেক্ষাপটটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও রক্তক্ষয়ী। গত ২৮

ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এক যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সাবেক

সর্বোচ্চ নেতা ও মোজতবার পিতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। একই হামলায় মোজতবা

খামেনির মা, বোন এবং স্ত্রীসহ পরিবারের একাধিক নিকটজন প্রাণ হারান। মর্মান্তিক সেই

হামলায় মোজতবা খামেনি প্রাণে বেঁচে গেলেও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাঁর আঘাতের

গভীরতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ভিন্ন ভিন্ন দাবি থাকলেও ইরানি সূত্রগুলো নিশ্চিত

করেছে যে, তাঁর পায়ে আঘাত লেগেছে যা বর্তমানে বিপদমুক্ত। তবে মার্কিন গোয়েন্দা

সূত্রের বরাত দিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে যে তাঁর শারীরিক অবস্থা বেশ জটিল।

এই সংবেদনশীল সফরের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর

ক্রেমলিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রুশ সংবাদ

সংস্থা ‘তাস’ এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চাইলে ক্রেমলিনের প্রেস সেক্রেটারি জানান

যে, এ ধরনের স্পর্শকাতর প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে তারা বিরত থাকছেন। পুরো

বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয়তা ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে পরিচালনা করা হচ্ছে।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্বভার

গ্রহণ করেছেন। এমন একটি অন্তর্বর্তীকালীন ও যুদ্ধাবস্থার মধ্যে তাঁর রাশিয়ায়

অবস্থান ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার ওপর বড়

ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর দ্রুত সুস্থতা এবং ইরানি প্রশাসনের পরবর্তী

পদক্ষেপগুলো এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। রাশিয়ার মাটিতে তাঁর

এই চিকিৎসা গ্রহণ মূলত পশ্চিমা শক্তির বিরুদ্ধে তেহরান ও মস্কোর একীভূত অবস্থানেরই

একটি শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে।