আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন সরফরাজ আহমেদ

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ১:০২ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৬, ২০২৬

পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক ব্যাটার সরফরাজ

আহমেদ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। পাকিস্তান ক্রিকেট

বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের অবসরের

বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটল প্রায় দুই দশকের এক বর্ণাঢ্য ও

গৌরবোজ্জ্বল ক্যারিয়ারের।

করাচিতে জন্ম নেওয়া সরফরাজের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালে

একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচের মাধ্যমে। এর তিন বছর পর ২০১০ সালে তিনি টেস্ট ও

টি-টোয়েন্টি সংস্করণেও অভিষেক করেন। পাকিস্তানের হয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ৫৪টি

টেস্ট, ১১৭টি একদিনের ম্যাচ এবং ৬১টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। তিন সংস্করণ

মিলিয়ে তিনি মোট ৬ হাজার ১৬৪ রান সংগ্রহ করেছেন। তার ব্যক্তিগত অর্জনের ঝুলিতে

রয়েছে ৬টি শতরান ও ৩৫টি অর্ধশতক। উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতেও তিনি ছিলেন অনন্য;

নিয়েছেন ৩১৫টি ক্যাচ এবং করেছেন ৫৬টি স্টাম্পিং।

সরফরাজ আহমেদ তিন সংস্করণ মিলিয়ে মোট ১০০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব

দিয়েছেন। তার অধিনায়কত্বেই পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের এক

নম্বর দল হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল। এছাড়া তার অধীনে দলটি টানা ১১টি টি-টোয়েন্টি

সিরিজ জয়ের এক অনন্য বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল।

তবে সরফরাজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে।

তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে ১৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে

শিরোপা জয় করে পাকিস্তান। তিনি পাকিস্তানের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে এই শিরোপা জয়ের

কৃতিত্ব অর্জন করেন। এর আগে ২০০৬ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও তার নেতৃত্বে

পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ফলে জুনিয়র ও সিনিয়র—উভয় পর্যায়ে বৈশ্বিক শিরোপা জেতা

একমাত্র পাকিস্তানি অধিনায়ক হিসেবে তিনি ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখিয়েছেন।

ব্যক্তিগত রেকর্ডেও সরফরাজ ছিলেন সমান উজ্জ্বল। ২০১৯ সালে জোহানেসবার্গে দক্ষিণ

আফ্রিকার বিপক্ষে এক টেস্ট ম্যাচে ১০টি ক্যাচ নিয়ে তিনি পাকিস্তানের হয়ে নতুন

রেকর্ড গড়েন। এছাড়া ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শতরান করার

মাধ্যমে পাকিস্তানের একমাত্র উইকেটরক্ষক ব্যাটার হিসেবে সেই বিশেষ কীর্তি স্থাপন

করেন।

২০২৩ সালে পার্থে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত টেস্ট ম্যাচটিই ছিল পাকিস্তানের

জার্সিতে সরফরাজের শেষ উপস্থিতি। জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আবেগপ্রবণ হয়ে সরফরাজ

বলেন, পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মানের বিষয়। ২০০৬

সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয় থেকে শুরু করে ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হাতে

তোলা—প্রতিটি মুহূর্তই তার কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর এই প্রস্থান

পাকিস্তানের ক্রিকেট অঙ্গনে একটি যুগের অবসান ঘটিয়েছে।