এনসিপির ৮৭ নেতাকর্মীর একযোগে পদত্যাগ Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ১০:১০ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০২৬ রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উপজেলা কমিটির সভাপতি ও সদস্যসহ মোট ৮৭ জন নেতাকর্মী একযোগে পদত্যাগ করেছেন। এই ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার (৯ মার্চ), অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভার পর। ঐ দিন দলটির পুরো কমিটির সব সদস্যই তাদের পদত্যাগের ঘোষণা দেন। উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক অসিম চাকমা ও যুগ্ম আহ্বায়ক দেবাশীষ চাকমা এই সিদ্ধান্তের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। মূলত পদত্যাগপত্র হাতে পাওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট সবাই রাঙামাটি জেলা কমিটির কাছে তা জমা দেন। জানানো হয়, চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি জেলা কমিটির পক্ষ থেকে জুরাছড়ি উপজেলা কমিটিকে ছয় মাসের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মাত্র দুই মাসের মধ্যে, রাজনৈতিক মতভেদের কারণে, এই পুরো কমিটি একযোগে পদত্যাগ করে। নেতাদের মতে, তারা জুলাই মাসে দেশের স্বাধীনতা ও গণঅভ্যুত্থানের আদর্শে দীক্ষিত হয়ে এই দলটি Joining করে ছিলেন, যাতে তারা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। তবে, তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত দলটির মূল ভাবধারাকে ক্ষুণ্ণ করেছে বলেও তাদের ভাষ্য। অসিম চাকমা আরও জানান, বর্তমানে দলের নীতিনির্ধারণী ধারাগুলোর সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত ও আদর্শিক অবস্থান মিলছে না। তাই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, তারা প্রত্যাশা করছিলেন দল স্বতন্ত্রভাবে বিপ্লবের উদ্দেশ্যে এগিয়ে যাবে, কিন্তু জোটের রাজনীতি সেই স্বপ্নকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। এ কারণেই, তারা তাদের আদর্শের প্রশ্নে আপোস না করে পদত্যাগ করাকে সঙ্গত মনে করেছেন। রাঙামাটির জেলা শাখার আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা এই পদত্যাগপত্র পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অন্য দিকে, এই ব্যাপক গণপদত্যাগকে কেন্দ্র করে এনসিপির উচ্চ পর্যায়ে কিছু সন্দেহ দেখা দিয়েছে। দলের দক্ষিণাঞ্চলীয় সংগঠক মনজিলা সুলতানা ঝুমা জানান, তারা এখনই নিশ্চিত নন যে, এই অবস্থানের পেছনে কোনো রাজনৈতিক চাপ বা অন্য কারণ রয়েছে কি না। তিনি বলছেন, ভোটের আগে যদি জোট বা জামায়াত সংশ্লিষ্ট কারণ থাকত, তবে তা অবশ্যই নির্বাচনের আগে ঘটে যেত। তাঁর ধারণা, ভোট শেষে এই একযোগে পদত্যাগের পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক মহলের চাপ থাকতে পারে। তবে, অসিম চাকমা স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় এবং দলীয় আদর্শ রক্ষার জন্য। পার্বত্য অঞ্চলে এমন বৃহৎ পদত্যাগের ফলে এনসিপির আঞ্চলিক সংগঠনের কার্যক্রমে বড় ধরনের শূণ্যতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। SHARES রাজনীতি বিষয়: