জামায়াতের সঙ্গে জোট করায় ৭ নেতার দল ছাড়লেন এনসিপি

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৮:৩৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ১১, ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাঙামাটি জেলা কমিটির সাত শীর্ষ নেতা সম্প্রতি দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। তাঁদের ধারনা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট বাঁধার কারণেই তারা নিজেদের পদত্যাগপত্র দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠিয়েছেন। এই খবর বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

পদত্যাগ করা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন– এনসিপির রাঙামাটি জেলা শাখার যুগ্ম সদস্যসচিব উজ্জ্বল চাকমা, সংগঠনিক সম্পাদক দিবাকর চাকমা, মিশন চাকমা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক উষাপ্রু মারমা, দপ্তর সম্পাদক প্রণয় বিকাশ চাকমা, সদস্য বিনয় চাকমা এবং সদস্য সুলেখা চাকমা।

তারা লিখিত যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে উল্লেখ করেছেন যে, ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত গণঅভ্যুত্থানের ভাবধারার সাথে একেবারে বিরোধিতা করে তিনি ও অন্যান্য নেতারা এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সময় তাদের স্বতন্ত্র আদর্শ থেকে সরে এসে বৃহৎ একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট গঠন করেছেন। তবে এই জোটের সাথে থাকা এবং তার মূল আদর্শকে লালন করাও এখন সম্ভব নয়, এই কারণেই তারা দলত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নেতাদের পদত্যাগপত্রের কপি তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাগ করেছেন। উজ্জ্বল চাকমা নিজের লেখা পদত্যাগপত্রে বলছেন, ‘অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আমি এনসিপিতে যোগ দিয়েছিলাম। গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটকে ধারণ করে দলটি শুরুতে অনেকটাই বহুমাত্রিক ও বহুত্ববাদী ভাবধারার পরিচয় দিয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দলটি তার স্বতন্ত্র আদর্শ থেকে সরে এসে বৃহৎ দলের সাথে জোট গঠন করে, যা আমার জন্য নৈতিক এবং আদর্শগতভাবে সম্ভব নয়। এই অবস্থায় আমি সব সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি এবং দলীয় পদ থেকে ইতিমধ্যে পদত্যাগ করলাম।’

এদিকে, এনসিপির রাঙামাটি জেলা শাখার আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা বলেন, ‘আমার শুনেছি বেশ কিছু নেতা পদত্যাগ করেছেন, তবে এখনও কোনও লিখিত আবেদন পাইনি। হঠাৎ করে এই গণহারে পদত্যাগের কারণ খতিয়ে দেখা হবে।’

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের হয়ে নির্বাচনে অংশ নেয় এনসিপি। এই সিদ্ধান্তের কারণে কিছু নেতাকর্মী, যেমন ডা. তাসনিম জারা ও সামান্থা শারমিন, নির্বাচনের আগে দল ছাড়েও সিদ্ধান্ত নেন।