অনিশ্চয়তায় ‘অ্যাভাটার ফোর’, কী বলছেন নির্মাতা? Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৬:২৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ১১, ২০২৬ বিশ্ববিখ্যাত নির্মাতা জেমস ক্যামেরনের হাত ধরে শুরু হওয়া ‘অ্যাভাটার’ ফ্র্যাঞ্চাইজি বিশ্বজুড়ে যে পরিমাণ দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে, তা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক বিরল নজির। তবে সম্প্রতি এই জনপ্রিয় সিরিজের চতুর্থ কিস্তি ‘অ্যাভাটার ৪’ নির্মাণ হওয়া নিয়ে এক ধরণের অনিশ্চয়তা ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে সর্বশেষ মুক্তি পাওয়া সিরিজের তৃতীয় কিস্তি ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’-এর ব্যবসায়িক পরিসংখ্যানকে। ছবিটি বক্স অফিসে ভালো সাড়া ফেললেও এর আকাশচুম্বী নির্মাণ ব্যয়ের তুলনায় তা লাভের মুখ দেখতে এখনও হিমশিম খাচ্ছে, যা খোদ নির্মাতার কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এই গুঞ্জন আর আলোচনার মাঝেই সম্প্রতি পরবর্তী কিস্তি নিয়ে মুখ খুলেছেন পরিচালক জেমস ক্যামেরন। গত সোমবার এক জমকালো ‘স্যাটার্ন অ্যাওয়ার্ডস’ অনুষ্ঠানে সিনেমাটির চতুর্থ কিস্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হন তিনি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে জেমস ক্যামেরন বেশ কৌশলী জবাব দিয়েছেন। পরবর্তী কিস্তি আসবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও শুধু বলেছেন যে এর একটি বড় ধরণের সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এই ছোট জবাবের মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর ইতিবাচক মনোভাব বজায় রেখেছেন, কিন্তু চতুর্থ কিস্তি আসার পথ যে আগের মতো অবারিত নয়, তা বেশ স্পষ্ট। সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘অ্যাভাটার ৪’ আলোর মুখ দেখবে কি না তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে তৃতীয় কিস্তির দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক ফলাফল এবং দর্শকদের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়ার ওপর। বর্তমান বিশ্ব বাজারে ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ প্রায় ১.৪৫ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যা অন্য যেকোনো সিনেমার জন্য অসামান্য অর্জন হলেও অ্যাভাটার সিরিজের জন্য যথেষ্ট নয়। কারণ, এর আগের কিস্তি ‘দ্য ওয়ে অফ ওয়াটার’-এর তুলনায় এই ছবির আয় অন্তত ৮৭০ মিলিয়ন ডলার কম হয়েছে। নির্মাণ ব্যয় এবং বিশাল পরিসরের বিপণন খরচের হিসাব মিলিয়ে দেখলে তৃতীয় কিস্তিটি এখনও লাভের কাঙ্ক্ষিত সীমানা স্পর্শ করতে পারেনি। জেমস ক্যামেরন বর্তমানে পরিস্থিতির কঠোর বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, বিশ্ব চলচ্চিত্র শিল্প এখন এক চরম প্রতিযোগিতামূলক ও প্রতিকূল সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় সামনের প্রজেক্টগুলোর সফলতার জন্য কেবল প্রযুক্তির ব্যবহার নয়, বরং নির্মাণ ব্যয় কমিয়ে আনার কৌশলটিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। ‘টাইটানিক’ বা ‘টার্মিনেটর’-এর মতো কালজয়ী সিনেমা উপহার দেওয়া এই মাস্টারমেকার বর্তমানে নিবিড়ভাবে বাজার পর্যবেক্ষণ করছেন। প্যানডোরা জগতের মায়াবী গল্প বড় পর্দায় আরও এগিয়ে যাবে নাকি আপাতত এখানেই স্থগিত হবে, তা জানতে দর্শকদের আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। SHARES বিনোদন বিষয়: