যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আর কোনো আলোচনা নয়: দীর্ঘ যুদ্ধের প্রস্তুতির ঘোষণা ইরানের Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৮:০৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০২৬ মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিরতার মাঝে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার সব ধরণের পথ ও সম্ভাবনা আনুষ্ঠানিকভাবে নাকচ করে দিয়েছে ইরান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক শক্তিশালী উপদেষ্টা কামাল খারাজি আজ এক কঠোর বার্তায় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সাথে কূটনীতি বা সংলাপের জন্য বিন্দুমাত্র জায়গা আর অবশিষ্ট নেই। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে তেহরান তাদের অনমনীয় অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। খারাজি দৃঢ়তার সাথে আরও উল্লেখ করেছেন যে, ইরানের সামরিক বাহিনী যেকোনো ধরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং একটি সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কড়া বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কামাল খারাজির এই অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য আলোচনার যে ক্ষীণ আশাটুকু ছিল, তা এখন বিলীন হওয়ার পথে। রাজনৈতিক বার্তার চেয়েও ইরানের এই বক্তব্য একটি সরাসরি সামরিক হুঙ্কার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ওই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার আশঙ্কাকে আরও প্রবল করে তুলেছে। কোনো ধরণের কূটনৈতিক ছাড় না দিয়ে সরাসরি যুদ্ধের প্রস্তুতির এই ডাক তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যবর্তী উত্তেজনাকে এখন খাদের কিনারায় নিয়ে দাঁড় করিয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই মুখমুখি সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব অত্যন্ত প্রকটভাবে পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব বাজারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। খ্যাতনামা বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস এক বিশেষ সতর্কবার্তায় জানিয়েছে যে, যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না করা যায়, তবে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে ১৫০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। বর্তমানে ভূ-রাজনৈতিক এই সংঘাতের জেরে ওই পথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় ৮০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শত শত তেলবাহী বড় বড় ট্যাঙ্কার মাঝ সমুদ্রে আটকা পড়েছে। যুদ্ধের এই বাতাবরণ বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহ চেইনকে লণ্ডভণ্ড করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বড় ধরণের অর্থনৈতিক ধসের আশঙ্কা থেকে উভয় পক্ষকে সংযমের আহ্বান জানালেও মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে অন্য কথা। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরো অঞ্চল এখন এক অনির্ধারিত মহাপ্রলয়ের প্রহর গুনছে। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: