ঢাবিতে পিটিয়ে হত্যা: ২২ আসামির গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৭:৩০ অপরাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০২৬ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে সন্দেহভাজন একজন যুবককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এদের মধ্যে ২২ জন পলাতক থাকায় তাদের গ্রেফতারির জন্য আদালত পরোয়ানা জারি করেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এই মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে এই আদেশ দেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জালাল মিয়া, আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ, আল হোসাইন সাজ্জাদ, মোত্তাকিন সাকিন শাহ, সুমন মিয়া, ওয়াজিবুল আলম, ফিরোজ কবির, আব্দুস সামাদ, সাকিব রায়হান, ইয়াছিন আলী, ইয়ামুজ্জামান ওরফে ইয়াম, ফজলে রাব্বি, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান, রাতুল হাসান, সুলতান মিয়া, নাসির উদ্দিন, মোবাশ্বের বিল্লাহ, শিশির আহমেদ, মহসিন উদ্দিন ওরফে শাফি, আব্দুল্লাহিল কাফি, শেখ রমজান আলী রকি, রাশেদ কামাল অনিক, মনিরুজ্জামান সোহাগ, আবু রায়হান, রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ, রাব্বিকুল রিয়াদ এবং আশরাফ আলী মুন্সী। অভিযুক্তদের মধ্যে কিছু অভিযোগে জামিনে রয়েছেন— আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ ও ওয়াজিবুল আলম। তবে জালাল মিয়া, আল হোসাইন সাজ্জাদ, মোত্তাকিন সাকিন শাহ ও সুমন মিয়া কারাগারে রয়েছেন। অন্যত্র ২২ জন এখনো পলাতক। প্রক্সিকিউশনের উপ-পরিদর্শক জিন্নাত আলী বলেন, মামলার বাদী মোহাম্মদ আমানুল্লাহ অভিযোগপত্রে নারাজি দিয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি হাজিরা দেননি। ফলে আজ আদালত এই ২৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন। পলাতক থাকায় ২২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। মামলার বিস্তারিত অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন এক যুবক। ছাত্ররা তাকে আটক করে প্রথমে মুসলিম হলের মূল ভবনের গেস্ট রুমে নিয়ে যান। মোবাইল চুরির অভিযোগে তাকে তারা চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন। পরে ওই যুবক নিজেকে তোফাজ্জল বলে পরিচয় দেন। তাকে মানসিক রোগী ধরে হলের ক্যান্টিনে খাবার খাওয়ানো হয়। এরপর তাকে হলের দক্ষিণ ভবনের গেস্ট রুমে নিয়ে গিয়ে জানালার পাশে হাত বেঁধে রেখে কিছু ছাত্র বেধড়ক মারধর শুরু করে, যার ফলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় রাত ১টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আসামিরা সবাই ওই ঘটনায় জড়িত বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহবাগ থানায় ঐ ছাত্রের স্বজন মো. আমানুল্লাহ একটি মামলা করেন। তদন্ত শেষে ৩০ ডিসেম্বর এই মামলায় ২১ ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত সুষ্ঠু নয় বলে অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ পিবিআইকে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। ১৫ ডিসেম্বর পিবিআই আরও সাতজনেরসহ মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগপত্র দাখিল করে। SHARES জাতীয় বিষয়: