জ্বালানির কোনো সংকট নেই, দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেইনি প্রতিমন্ত্রী

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৭:৩০ অপরাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০২৬

দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট দেখা যায়নি। এজন্য আপাতত বিদ্যমান পরিস্থিতির কারণে দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা কিংবা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং মার্চ মাসে কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি। সাধারণ মানুষের মধ্যে যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে, তা দ্রুতই কেটে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। সরকারের পক্ষ থেকে এপ্রিল ও মে মাসের পরিস্থিতি বিবেচনা করে যথাযথ প্রস্তুতি চলমান রয়েছে। পাশাপাশি, বিকল্প উৎস হিসেবে আফ্রিকা ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল আমদানির বিষয়েও কাজ চলছে।

অতিরিক্তভাবে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারত সরকারকে অনানুষ্ঠানিকভাবে তেল সরবরাহ বাড়ানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। ভারতের সঙ্গে দেশের একটি পাইপলাইন রয়েছে, যেখানে মাসে ১৫ হাজার টন তেল নিয়মিত আসে। যথোপযুক্ত পরিস্থিতিতে এ টেন্ডার বাড়ানো বা বিকল্প সরবরাহের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

এছাড়াও, পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ কিছু অংশ অামদানির ওপর নির্ভরশীল না হলেও কিছু এলাকায় অযৌক্তিকভাবে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে। অসাধু চক্রের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বিবেচনা করে জনদুর্ভোগ এড়াতে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আরও, রাইড শেয়ার চালকদের সুবিধার্থে আজ থেকেই প্রতিদিন ৫ লিটার করে তেল সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেসব কূটনৈতিক মিশনের যানবাহনে জ্বালানি তেল সরবরাহের সীমা নির্ধারিত ছিল, সেগুলির সীমা প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

সর্বশেষ, মোটরসাইকেলে তেলের রেশনিং সীমা ২ লিটার থেকে বাড়িয়ে ৫ লিটার করা হয়েছে। অন্যান্য যানবাহনের জন্য রেশনিংয়ের বিষয়ে রিভিউ চালানো হচ্ছে। এখনকার সরবরাহের পরিস্থিতি অনুযায়ী, দৈনিক ৯,০২২ টন ডিজেল, ১,০৭০ টন পেট্রোল ও ৯১৩ টন অকটেন সরবরাহ চলছে। সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।