ঠাকুরগাঁওয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ রূপকল্পের শুভ উদ্বোধন, ৫৯০ নারী পেলেন কার্ড

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩১ অপরাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০২৬

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নে রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নতুন ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ শুরু হয়েছে। আজ मंगलवार সকালে রহিমানপুর সম্মিলিত ঈদগাঁ আলীম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এক বিশাল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যিনি ৫৯০ জন নারীর হাতে এই বিশেষ কার্ড তুলে দেন। এই কার্ডের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ের প্রান্তিক গ্রামাঞ্চলের হতদরিদ্র ও নিম্নবিত্ত নারীরা সরাসরি সরকারের অর্থনৈতিক সুবিধা পাচ্ছেন।

এই কর্মসূচি দেশের সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইলট প্রকল্পের অংশ। বর্তমানে দেশের ১৪টি নির্দিষ্ট উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে এই কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। ঠাকুরগাঁওয়ের রহিমানপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দরিদ্র পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে এলজিআরডি মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম, এবং জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা উপস্থিত ছিলেন, যারা দেশের সাধারণ নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত ও নারীর ক্ষমতায়নে এই উদ্যোগকে যুগান্তকারী বলে আখ্যা দেন।

কার্ড বিতরণের জন্য স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খায়রুল ইসলাম। তিনি জানান, প্রথমে একটি বিশেষ কমিটির তত্ত্বাবধানে বাড়িতে বাড়ি যাচাই-বাছাই চালানো হয়, যেখানে ১ হাজার ৩৫ জন নারীর নাম ওঠে। এর পর তথ্য যাচাই করে আইডির জটিলতা সমাধান করে ১ হাজার ১০ জনের তথ্য সরকারি সার্ভারে আপলোড করা হয়। এরপর মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে দারিদ্র্য সূচকের ভিত্তিতে সবচেয়ে যোগ্য ৫৯০ জনের নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা বলেন, এই তালিকা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, বিজ্ঞানভিত্তিক ও নির্মোহভাবে তৈরি।

কার্ড বিতরণের সময় একটি আবেগপূর্ণ মুহূর্তের দেখা মেলে। রহিমানপুর গ্রামের ৫০ বছর বয়সী মারজিনা বেগমের চোখে অশ্রু ঝরে পড়ে, কারণ দীর্ঘদিন স্বামী কোনো স্থায়ী কাজ করেননি। তিনি জানান, এখন থেকে সরকার তাদের চাল-ডাল কিনতে সহায়তা করবে, যা তাঁর জন্য এক অমূল্য উপহার। অন্যদিকে, বর্গাচাষী রাজিয়া সুলতানা তাঁর তিন সন্তানের পড়াশোনার জন্য এই সরকারি সহায়তার প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রান্তিক নারীদের এই হাসি ও আনন্দ সরকারের দীর্ঘমেয়াদী জনবান্ধব প্রকল্পগুলোর সাফল্যের ইঙ্গিত। এই উদ্যোগটি নি:সন্দেহে দেশের অগ্রগতির পথে এক নতুন পরিবর্তনের সূচনা করেছে।