সরকারের পরিকল্পনা: ২৫শে মার্চ সারাদেশে প্রতীকী ব্ল্যাকআউট ও নিষেধাজ্ঞা

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩০ অপরাহ্ণ, মার্চ ৯, ২০২৬

আসন্ন ২৫শে মার্চ মহান গণহত্যা দিবস এবং ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সরকার। গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে উল্লেখ্য, গণহত্যা দিবসের ভাবাবেগ ও শোকাবহ পরিবেশ বজায় রাখতে ২৫শে মার্চ রাত ১০টা থেকে ১০টা ১ মিনিট পর্যন্ত সারাদেশে এক মিনিটের জন্য প্রতীকী ‘ব্ল্যাকআউট’ পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে কেপিআই (কী পাওয়ার ইন্সটলেশন) এবং জরুরি সেবা সংক্রান্ত স্থাপনায় এই কর্মসূচি থেকে বিরত থাকাহবে।

এর পাশাপাশি, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বিবেচনায় এবারের স্বাধীনতা দিবসে আলোকসজ্জার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২৫শে মার্চ রাতে কোনো ধরণের আলোকসজ্জা করা যাবে না। এছাড়া, ২৬শে মার্চ জাতীয় দিবসটি উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হলেও জাঁকজমকপূর্ণ আলোকসজ্জা এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদেরকে এই আদেশ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

সভা অনুযায়ী, ২৫ শে মার্চ গণহত্যা দিবসের স্মরণে দেশের সব স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোচনা ও স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। এসব অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা অংশগ্রহণ করবেন, যার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে ১৯৭১ সালের বিভীষিকাময় কালরাত ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরা হবে। এছাড়াও, ওই দিন দুপুর ১২টায় দেশের সিটি করপোরেশন এলাকায় ডিজিটাল মিনিপোলগুলোতে গণহত্যা সংক্রান্ত দুর্লভ ছবি ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। পুলিশ আইজিপি এবং জেলা প্রশাসকদের এই কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সমন্বয় করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

১৯৭১ সালের সেই নির্মম রাতে পাকিস্তানি বাহিনী দ্বারা শহীদদের স্মরণে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালনও চলমান থাকবে। ২৫ মার্চ বাদ জোহর বা সুবিধাজনক সময়ে দেশের সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা আয়োজন করা হবে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই কর্মসূচির সার্বিক তত্ত্বাবধান করবে।

সভায় আরও জানানো হয়, এই দুই গুরুত্বপূর্ণ দিবস যথাযথ মর্যাদা ও শৃঙ্খলার সঙ্গে পালনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সারাদেশে সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকবে। অপ্রীক্তিক পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের জনগণের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।