হাইকোর্টে চার মামলায় জামিন পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৭:৩০ অপরাহ্ণ, মার্চ ৮, ২০২৬ বিচারপতি খায়রুল হক, সাবেক প্রধান বিচারপতি, সম্প্রতি চারটি পৃথক মামলায় জামিন পেয়েছেন। এই মামলাগুলোর মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে যুবদল কর্মী হত্যা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। রবিবার (৮ মার্চ) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. খায়রুল আলম এবং বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই জামিনের আদেশ দেন। তবে, চারটি মামলায় জামিন পেলেও তিনি এখনও কারামুক্ত হননি, কারণ অন্য একটি মামলার বিষয়টি এখনও বিচারাধীন রয়েছে। আদালত ও মামলার নথিতে জানা গেছে, সাবেক এই প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে জুলাই মাসে যাত্রাবাড়ীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যার মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হন। এছাড়া, আরও তিনটি মামলা রয়েছে, যেগুলো মূলত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য জালিয়াতি ও পরিবর্তনের অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে—শাহবাগ, ফতুল্লা ও বন্দর থানায়। এসব মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন আবেদন নাকচ হওয়ায় তিনি উচ্চ আদালতের শরণ নেওয়া করেন। শুনানিতে সাবেক প্রধান বিচারপতির পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসরুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু, ব্যারিস্টার সারা হোসেন এবং অন্যান্য বিশিষ্ট আইনজীবীরা। দেশের রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল ইসলাম সুমন। আইনজীবীরা জানান, চার মামলায় জামিন মিললেও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সংশ্লিষ্ট অন্য একটি মামলায় তাঁর জামিন এখনও মঞ্জুর হয়নি। ফলে আইনি বিধিনিষেধের কারণে তিনি এখনই কারাগার থেকে মুক্তি পেতে পারছেন না। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির নিজের বাসভবন থেকে বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। দেশের বিচার বিভাগে এমন ঘটনা, যেখানে একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে এত গুরুতর অভিযোগ এবং একাধিক মামলা দায়ের হয়, তা নজিরবিহীন। এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে ব্যাপক আলোচনার শেষ নেই। আজকের এই আদেশ তাঁর জন্য কিছুটা চূড়ান্ত আইনি স্বস্তি হলেও, তিনি এখনো মুক্তি পেতে দেরি করছেন কারণ তাঁর অন্য মামলার নিষ্পত্তির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। SHARES জাতীয় বিষয়: