তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি: জ্বালানিমন্ত্রী

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৭:৩০ অপরাহ্ণ, মার্চ ৮, ২০২৬

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে দেশের সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রয়োজন নেই, কারণ এখনো সরকারি সিদ্ধান্ত আসেনি। রোববার (৮ মার্চ) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। এই আয়োজনটি মনোনীত হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের ২০তম কারাবন্দি দিবস উপলক্ষে।

মন্ত্রী তার বক্তৃতায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এখন একটি অনিশ্চয়তার পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশেষ করে, যেখানে থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম আমদানি করে, সেই অঞ্চলে সংঘাতের কারণে সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সতর্কতার সঙ্গে উদ্যোগ নিয়েছে এবং তেল সাশ্রয়ী ব্যবহারের জন্য সাময়িক রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, যুদ্ধের স্থায়িত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত না থাকায় এই সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়।

বর্তমানে দেশের তেল মজুতে আশার আলো দেখিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, সাগরে থাকা জ্বালানিবাহী জাহাজগুলো ইতিমধ্যে বাংলাদেশে প্রবেশের মাধ্যমে সরবরাহ শুরু হয়েছে। এক একটি জাহাজ আজ ভোরে বন্দরে নোঙর করেছে, আর অন্য জাহাজগুলো শিগগিরই ভেঁড়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এ সংবাদের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি মজুত আরও শক্তিশালী হবে এবং পাম্পে লম্বা লাইন ও ভিড় কমে আসবে। তিনি আবারো জানান, এই মুহূর্তে তেলের দাম বৃদ্ধির কোনও পরিকল্পনা সরকারের নেই, তাই জনগণের উচিত আর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা এড়ানো।

রমজান মাসে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন ওই মন্ত্রী। তিনি জানান, রমজানে ইফতার, তারাবি ও সেহরির সময় যাতে লোডশেডিং না হয়, সে জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বললেন, মাত্র ২০ দিন আগে তারা একজন ভঙ্গুর জ্বালানি খাত পেয়েছিলেন যেখানে আগের সরকারের বকেয়া ঋণের পরিমাণ ৭৬ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল ঋণের বোঝা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও বর্তমান সরকার সেই খাতকে সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে।

সভায় সরকারের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা চেয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের সচেতনতা ও সমর্থন ছাড়া অনাকাঙ্ক্ষিত সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। তাই সবাইকে জ্বালানি ব্যবহার যেন সাশ্রয়ী হয় এবং গুজব থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানটি উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফারজানা আক্তার রিমির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এবং নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম আলীমসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। মোটকথা, সরকারের এই অবস্থান ও বক্তব্য জ্বালানি বাজারের চলমান অস্থিরতা কমাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।