ব্রিটেন-ফ্রান্স ইউক্রেনে পারমাণবিক অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ রাশিয়ার

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৫:২৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬

ব্রিটেন ও ফ্রান্স গোপনে ইউক্রেনকে পারমাণবিক অস্ত্রের উপাদান ও প্রযুক্তি সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে রাশিয়া। রাশিয়ার বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা (এসভিআর) এই দাবি করার পর রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এই ধরনের পদক্ষেপ পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে সরাসরি সংঘাতে যেতে পারে, যা পুরো বিশ্বকে মারাত্মক বিপদে ফেলতে সক্ষম।

মস্কোর দাবি অনুযায়ী, ইউক্রেনের পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনে এই দুই ইউরোপীয় দেশ সহায়তা করছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করেনি রাশিয়ার এরকম সংস্থা। অন্যদিকে, ফ্রান্সের দূতাবাস এই অভিযোগকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ব্রিটেনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রাশিয়া আবারো হুঁশিয়ারি দিয়েছে, পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে সামরিক সংঘাতের ফলাফল ভয়ংকর হতে পারে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক আক্রমণের চার বছর পূর্ণ হওয়ার মুহূর্তে ইউরোপীয় নেতারা কিয়েভকে সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছেন। তবে মিত্রদের মধ্যে বিভক্তির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সম্প্রতি হাঙ্গেরি ইউক্রেনের জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ ও রাশিয়ার উপরে নতুন ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিষেধাজ্ঞায় ভেটো দিয়েছে। এদিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লিয়েন কিয়েভ সফরে গিয়ে আশ্বাস দিয়েছেন, ইউরোপ এই অর্থ সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেবে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ জি-৭ নেতারা এই চতুর্থ বছরে ইউক্রেনের ব্যাপারে তাদের শক্ত অবস্থান পুনরায় ব্যক্ত করেছেন। তারা শান্তি আলোচনার জন্য দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি আলোচনা গ্রহণযোগ্য বলে মনে করছেন, যারা সদুদ্দেশ্যে কাজ করলে স্থায়ী শান্তি সম্ভব।

বর্তমান পরিস্থিতিতে, রুশ সেনারা ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়ে বিদ্যুৎ, পানি ও যোগাযোগের ব্যবস্থা বিপর্যস্ত করছে, যদিও তারা সামান্য অগ্রগতি অর্জন করছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেন চেষ্টা করছে শান্তি আলোচনাকে বাধা দিচ্ছে। অন্যদিকে, ইউক্রেন তাদের শিল্পপ্রধান ডোনেৎস্ক অঞ্চলের শেষ ২০ শতাংশ জমি ছেড়ে দিতে অস্বীকার করছে।

প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি আবেগময় ভাষণে বলেছেন, হাজার হাজার জীবন ত্যাগের বিনিময়ে তারা মাতৃভূমি রক্ষায় অটুট থাকবে এবং কখনোই শত্রুর হাতে স্বাধীনতা ছেড়ে দেবে না। বর্তমানে কিয়েভের রাস্তাগুলো যুদ্ধের ক্লান্তি ও বিষাদের ছায়ায় ঢেকে গেছে, যেখানে নিহত সৈনিকদের স্মরণে নির্বিকার শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।

অর্থনৈতিক চাপ ও মানববল সংকট সত্ত্বেও, রাশিয়া আগামী ২০২৬ সাল পর্যন্ত ইউক্রেনে আক্রমণ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। এদিকে, ইউরোপের ওপর তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ইনস্টিটিউট, যা এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

এই ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বাস্টিয়ান গিগেরিশ বলছেন, ২০২৫ সালে রাশিয়া ব্যাপক সামরিক ব্যয় করলেও, তাদের ক্ষমতা কিছুটা কমে আসছে বলেই ধারণা। ২০২১ সালের পর থেকে রাশিয়ার সামরিক খরচ দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে, যা দেশটির জিডিপির প্রায় ৭.৩%। এই ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়ের দ্বিগুণেরও বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থনৈতিক ধীরগতি ও সামরিক খরচ কমতে শুরু করলেও, রাশিয়া এখনও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তারা উচ্চমাত্রার যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারছে, আর আক্রমণের গতি কিছুটা ধীর হয়ে আসছে। তবে, সামরিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়োগ ও ক্ষয়ক্ষতির হার কমে আসলেও, রুশ ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক খরচের ক্ষেত্রে কিছু অসুবিধা থাকলেও, রাশিয়া এখনও বৃহৎ শক্তি হিসেবে থেকে গেছে। তারা ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আড়ালে আক্রমণের মাধ্যমে ইউক্রেনে হামলা চালাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, মাসিক নীতির তুলনায় রাশিয়া নিয়োগের হার ধীরে ধীরে কমছে, তবে তারা এখনও লাখো লাখো সেনা নিয়োগ করতে সক্ষম। তবে, নিয়োগে মানের অবনতি হতে পারে, কারণ বর্তমানে নিয়োগকারীরা মদ্যপ, মাদকাসক্ত বা অসুস্থ ব্যক্তিদের নিয়োগও করছে।

রুশ হতাহতের সংখ্যা নিয়ে নানা হিসাব রয়েছে। সরকারি সংস্থাগুলি জানাচ্ছে, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাশিয়ার সেনা হারানো হয়েছে শত শত। যেমন, ডিসেম্বরের শেষের দিকে বলা হয়ছে, রাশিয়ার ৩৫,৩০০ ও জানুয়ারিতে ৩১,৭১৩ সৈন্য হতাহত হয়েছে।