গাছ কাটার অভিযোগে মিঠামইন বিএনপি সভাপতির পদ স্থগিত

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে নদীভাঙন রোধে রোপণ করা প্রায় ২০টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মিঠামইন উপজেলা শাখার সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের পদ স্থগিত করেছে। এই সিদ্ধান্তটি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, যা দলের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজেও প্রকাশিত হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, কামালপুর এলাকায় নদীভাঙন রোধে বানানো বেড়িবাঁধে রোপণকৃত গাছ নিজস্ব স্বার্থে কেটে ফেলার কাজ করেছেন। এটি দলের নীতিমালা ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল, তাই তার প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, উত্তরাধিকার সূত্রে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর নদীভাঙন রোধে ওই বেড়িবাঁধে গাছ রোপণের উদ্যোগ নেন। দীর্ঘদিন ধরে এই গাছগুলো এলাকাবাসীর কাছে ভাঙন প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত সভাপতি বাড়িতে যেতে হলে বাঁধের ওপর দিয়ে চলাচল করতে হয়। ব্যক্তিগত গাড়িতে যাওয়াজনিত সমস্যা দেখা দেওয়ায়, গত ৫ আগস্ট থেকে গাছ কাটা শুরু হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে ১০-১২টি গাছ কাটা হয়। প্রতিটি গাছের বাজারমূল্য আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বলে জানা গেছে। অভিযোগ, বৈদ্যুতিক করাত দিয়ে ধাপে ধাপে গাছগুলো কেটে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর এলাকা থেকে ক্ষোভ বেড়েছে, তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সদ্য স্থগিত হওয়া সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর দাবী করেন, তিনি কোনো গাছ কেটেছেন না। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

মিঠামইন থানার উপপরিদর্শক আলমোমেন জানান, বাঁধের গাছ কাটার অভিযোগে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ফয়েজুর রজ্জাক বাদী হয়ে আঞ্জুর মিয়াসহ আরও দুজন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।