পাকিস্তানে দারিদ্র্য বেড়ে চরমে

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৮:৪৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

গত সাত বছরের মধ্যে পাকিস্তানে দারিদ্র্যের হার ভয়ংকরভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বর্তমানে ২৮.৯ শতাংশে পৌঁছেছে। ইসলামাবাদে একটি অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেন এবং জানান যে, দীর্ঘ বিরতির পরে নতুন করে হালনাগাদ করা তথ্য অনুযায়ী, এই সাত বছরে দারিদ্র্য ৭ শতাংশের মতো বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত যদিও দেশটি দারিদ্র্য কমানোর জন্য কিছু কিছু কাঠিন্য সহকারে উদ্যোগ নিয়েছিল, কিন্তু বিগত কিছু বছর ধরে সেই প্রবণতা পুরোপুরি উল্টো দিকে মোড় নিয়েছে। মন্ত্রী তার মন্তব্যে উল্লেখ করেন যে, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির এ ধরনের অবনতি আবারো গুরুত্ব আরোপ করছে যে, সরকারকে গভীর ও শৃঙ্খলাবদ্ধ অর্থনৈতিক সংস্কার অবিলম্বে চালু করতে হবে।

নতুন পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দেখা গেছে যে, শুধু শহর নয়, গ্রামাঞ্চলেও দারিদ্র্য গভীরতর হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শহরে দারিদ্র্য হার আগের ছিল ১১ শতাংশ, এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭.৪ শতাংশ। অন্যদিকে, গ্রামাঞ্চলে এই হার ২৮.২ শতাংশ থেকে বেড়ে বর্তমানে ৩৬.২ শতাংশে পৌঁছেছে। এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দেয় যে, দেশের অধিকাংশ মানুষ এখন জীবন যাপনের মৌলিক প্রয়োজনীয়তাগুলো আয়ত্তে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে, নিত্যপণ্যসহ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ব্যাপকভাবে কমে গেছে।

প্রাদেশিক ভিত্তিতে দেখা গেছে যে, পাকিস্তানের চার প্রদেশের ক্ষেত্রেও দারিদ্র্যের হার বেড়েছে। পাঞ্জাব প্রদেশে দারিদ্র্য হার ১৬.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে এখন ২৩.৩ শতাংশ। সিন্ধু প্রদেশে এই হার ৩২.৬ শতাংশ, এবং খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে ৩৫.৩ শতাংশে পৌঁছেছে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা গেছে বেলুচিস্তানে, যেখানে প্রায় ৪৭ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। পরিকল্পনামন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, যদিও প্রাদেশিক সরকারগুলোর উন্নয়ন বাজেট কেন্দ্রীয় সরকারের তুলনায় তিনগুণ বেশি, তবুও দারিদ্র্য ও বৈষম্যের এই উচ্চ হার কমানো সম্ভব হয়নি।

পাকিস্তানে দারিদ্র্য বাড়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক বৈষম্যও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, দেশের বৈষম্যের হার ২৮.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২.৭ শতাংশে পৌঁছেছে। আহসান ইকবাল বলেন, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নীতির ধারাবাহিকতা না থাকা, কোভিড-১৯ মহামারির দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত অনুযায়ী কঠোর কর্মসূচি এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। বিশেষ করে, পাকিস্তানি রুপির চরম অবমূল্যায়নের ফলে দেশজুড়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভয়াবহ দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে আইএমএফ-এর কঠোর শর্ত মানা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প ছিল না।