মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সম্ভাবনা ও ইরানের যুদ্ধত্ব প্রস্তুতি Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৮:৪৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। অঞ্চলটিতে মার্কিন সেনা উপস্থিতি ও সামরিক কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একের পর এক সামরিক মহড়া, রণতরী মোতায়েন, আধুনিক যুদ্ধবিমান পাঠানো এবং শক্তিশালী অস্ত্রশস্ত্রের সংযোজনের মাধ্যমে পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই অস্থিরতা পেরিয়ে এক সময় সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে দুই প্রধান দেশ। তবে, এই পরিস্থিতির মধ্যেও মার্কিন প্রশাসনের হুমকি ও চাপের মুখে বসে নেই ইরান। কূটনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাধানের কথা বললেও, নিজেদের সামরিক সক্ষমতা জোরদার করতে প্রস্তুতির শেষ করে দিচ্ছে টেহরান। দেশটির পক্ষে পক্ষে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে নতুন প্রযুক্তি ও সামরিক সরঞ্জাম যোগ করে নেওয়া হচ্ছে। সিএনএন এর পক্ষ থেকে প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবি অনুযায়ী, ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনা আগের তুলনায় আরও বেশি সুরক্ষিত ও শক্তিশালী করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র পুনর্নির্মাণের অংশ হিসেবে নতুন প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে যা আরও বেশি কার্যকর। ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে, ইরান নতুন করে আধুনিক ফাইটার জেট সংগ্রহ করছে এবং রাশিয়ায় থেকে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনছে। বিমানঘাঁটিগুলোও দ্রুত মেরামত ও আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে যাতে,যে কোনও আকস্মিক হামলার পর দ্রুত পাল্টা আঘাত হানতে পারে। সেমনান প্রদেশের শাহরুদ শহরে দেশের অন্যতম বড় ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র পুনর্গঠনের কাজ অধিক গতিতে চলছে। যুদ্ধকালীন মার্কিন হামলার ক্ষতিগ্রস্ত এই কেন্দ্রটি সংস্কার ও আধুনিকীকরণের পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি যুক্ত হয়েছে, যা এখন আগের চেয়ে দ্রুত ও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করতে সক্ষম। বৈঠক ও কূটনৈতিক আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে। জেনেভায় ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদের মধ্যে তিন ঘণ্টার বেশি সময়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হলেও কোনও চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। তিনদিকে, ইরান একটি নতুন ডিফেন্স কাউন্সিল গঠন করেছে। সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার আলী শামখানিকে এই কাউন্সিলের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এবং উদীয়মান হুমকির মোকাবিলার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া চলছে। পর্যটন পারস্য উপসাগরে ইরানের নৌবাহিনী জোরদার মহড়া চালাচ্ছে। সম্প্রতি রাশিয়ার সাথে যৌথ নৌ-অনুশীলনও হয়েছে। বিশেষ করে, স্ট্রেইট অফ হরমুজ এলাকায় নৌ সামরিক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক তেল পরিবহন ও বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতেও তেহরান কঠোর অবস্থান নিতে শুরু করেছে। দেশটির নানা আন্দোলন ও প্রতিবাদ দমন করা হচ্ছে কঠোরভাবে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বুঝিয়ে দিতে চাইছে, যদি সংঘাত শুরু হয়, তবে এর ফল হবে ব্যাপক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত পরিবর্তন। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা উপস্থিতি বৃদ্ধি ও ইরানের যুদ্ধ প্রস্তুতি বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, যদি সরাসরি যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে পুরো অঞ্চলটাই সংঘর্ষের জোয়ারে ঝাঁপিয়ে পড়বে, যার প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তাতেও। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: