ওমানে ইরান-রাশিয়া নৌ মহড়া, যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর সতর্কতা

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৪৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

বৃহস্পতিবার ওমান উপসাগর ও ভারত মহাসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার উদ্দেশ্যে ইরান ও রাশিয়া এক সম্মিলিত নৌ-মহড়া চালিয়ে গেল। এ মহড়ার মাধ্যমে দুই দেশ তাদের পারস্পরিক সামরিক সম্পর্ক দৃঢ় করছেন এবং সামুদ্রিক কূটনৈতিক কার্যক্রম আরও উন্নত করার পাশাপাশি অভিজ্ঞতা বিনিময় করছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, এই মহড়ার শেষ পর্যায়ে রাশিয়ার নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার ক্যারিয়ারকে বিদায় জানানো হয়। আইআরএনএ-র তথ্য অনুযায়ী, এই ধরনের যৌথ মহড়া বিভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে সামুদ্রিক কৌশলসমৃদ্ধি, সামরিক মিথস্ক্রিয়া বিস্তার এবং অভ্যন্তরীণ উপকূলে আভিযানিক অভিজ্ঞতা লাভ। উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা একথায় ঝোঁকের সঙ্গে বলেছেন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় সহায়ক এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে। এরই মধ্যে, আরব সাগরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের ক্ষেপণাস্ত্রবাহী নৌবহর বৃদ্ধি করেছে এবং এসব বহর থেকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দিচ্ছে। এর ফলে, তেহরান রুশ অংশীদারিত্বের অংশ হিসেবে দেশীয় পরিপ্রেক্ষিতে সামরিক মহড়ায় অংশ নিয়েছে। মহড়া শেষের আগের দিন, তেহরানে রাশিয়ার জ্বালানি মন্ত্রীসহ এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনা করেন। আইআরএনএ জানায়, এই বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি বাস্তবায়নে দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করেন। তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের উল্লেখ করে বলেন, সেই সভাগুলোর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়েছে। একই সময়ে, ইরান জাতিসংঘকে জানায়, যদি মার্কিন সরকার তাদের সামরিক হুমকি বাস্তবায়ন করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি একটি চিঠির মাধ্যমে এই সতর্কবার্তা প্রদান করেন, যেখানে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টের উদ্ধৃতি দেন। ট্রাম্পের পোস্টে বলা হয়েছিল, ইরান যদি চুক্তি না মানে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ভারত মহাসাগরের দ্বীপ ও যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারে সক্ষম হবে। ইরাভানি চিঠিতে উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন যুদ্ধপ্রস্তাবমূলক বক্তব্য সামরিক আগ্রাসনের ঝুঁকি নির্দেশ করে, যা এই অঞ্চলের জন্য বিপদজনক ও আন্তর্জাতিক শান্তি-নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।