অর্থমন্ত্রীর আশ্বাস: শিগগিরই চট্টগ্রাম বন্দরে গতি বাড়বে

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে দ্রুত অগ্রগতি আনতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ শুরু করেছেন নবনিযুক্ত অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি গত শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের মেহেদীবাগে 자신의 বাসভবনে বন্দরের বিভিন্ন অংশীজন, কাস্টমস কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অায়োজন করেন। সেই বৈঠকে তিনি ঘোষণা করেন, বন্দরের প্রতিটি স্তরে বিদ্যমান জটিলতা ও সংকট দ্রুত সমাধান করে দেশের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম আরও সহজতর করা হবে। এর ফলে দেশের সাধারণ ভোক্তা সমাজের জন্য দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী জানান, কাস্টমস, পরিবহন শ্রমিক, বন্দরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেছেন, বন্দরে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা, পরিচালনায় জটিলতা ও বিভিন্ন স্তরে স্বচ্ছতার অভাবের কারণে ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের অতিরিক্ত খরচ গুণতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি ব্যবসা, উৎপাদন ও বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণ হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কিছু সমস্যা দ্রুত সমাধানে কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসের সময়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পণ্যগুলো খালাস করতে তিনি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, যাতে বাজারে সামগ্রিক দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল থাকে।

এছাড়া, তিনি দেশের পুঁজিবাজার নিয়েও উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেন। বলেন, অতীতের মতো শেয়ার বাজারে সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরানোর জন্য বর্তমান সরকারের তরফ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শেয়ার বাজার সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করে তোলা হবে, যাতে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ থাকেন। এই জন্য বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে, যা সম্পন্ন হলে এই ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের বিপ্লব ঘটবে।

অর্থমন্ত্রীর মতে, শেয়ার বাজারের এই নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতা শুধু সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্যই না, তা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পোদ্ভুতিতে ব্যাপক পুঁজির জোগান দেবে। এর ফলে শিল্পকারখানা উৎপাদন ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে, পাশাপাশি কর্মসংস্থানও বিস্তার লাভ করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ও সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সরকারের মূল লক্ষ্যই হবে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা।

বিশেষ করে, এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বন্দর ও কাস্টমসের শীর্ষ কর্মকর্তারা পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। তারা অর্থমন্ত্রীর দ্রুত এবং কার্যকর উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন, এবং এই প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করেছেন।