মব কালচার থেকে বিরত থাকা জরুরি: পানিসম্পদ মন্ত্রী

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসের ঐতিহাসিক মুহূর্তে লক্ষ্মীপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে, দেশের সাম্প্রতিক ব্য Vlaamse রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি চৌধুরী। শনিবার সকালে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে প্রচলিত ‘মব কালচার’ বা গণ-উন্মাদনা সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খলা করার প্রবণতা খুবই উদ্বেগজনক। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, একটি উন্নত ও সুশৃঙ্খল বাংলাদেশ গঠনে মব কালচার অন্যতম প্রধান বাধা। যারা এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছেন, তাদের অবিলম্বে এ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী মনে করেন, দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে প্রত্যেক নাগরিককে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে এবং নিজেদের অবস্থান থেকে সচেতন ও সৎ থাকতে হবে।

বক্তব্যের সময় মন্ত্রী এ্যানি চৌধুরী দেশের প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামোর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সরকারের সঙ্গে সমন্বয় সাধন ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য এ থাকা উচিত। যারা আইন নিজের হাতে নিতে চায় তাদের অপপ্রয়াস ব্যর্থ করে দিতে হবে, এবং এই ধরনের দুর্বৃত্ততার জন্য দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিই বহন করবেন। তিনি সবাইকে দেশের স্বার্থে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থকে একসাথে দেখার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি, তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশ এখন এক নতুন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধ্যায় প্রবिष्ट, যেখানে শৃঙ্খলা রক্ষা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে হলে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।

সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফলের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের আইনি প্রক্রিয়া কী হবে সে বিষয়ে সাধারণ জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি দূর করার চেষ্টা করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের শপথ পূর্ণ হয়েছে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের ফলাফল স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে, কারণ এটি সংবিধান অনুযায়ী নোট অব ডিসেন্টের মাধ্যমে বিবেচিত হবে। তিনি আশ্বস্ত করে জানান, এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ আইনি জটিলতা নেই। অন্যদিকে, যেখানে ‘না’ ভোট পড়েছে, সেখানে নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী সংসদে আলোচনা হবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। আইনজীবীদের ব্যাখ্যার মাধ্যমে জনসাধারণকে এর গুরুত্ব ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করার জন্য তিনি বিশেষভাবে অনুরোধ করেন।

অবশেষে, পানিসম্পদ মন্ত্রী রাজনৈতিক মতভিন্নতা স্বীকার করে বলেন, গণতন্ত্রের মূল সৌন্দর্য বিভিন্ন মতামত এবং ভিন্ন পথের স্বীকৃতি। তবে, সব ইস্যুতে কেবল বিরোধিতা করা বা প্রতিহিংসাপূর্ণ রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। দেশের স্থিতিশীলতা ও সরকারের গঠনমূলক কার্যক্রমে সকল রাজনৈতিক দলকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শ্রদ্ধা নিবেদনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবুদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, সদর ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা। শহীদ মিনারের ভাবগাম্ভীর্য্য বজায় রেখে ভাষা আন্দোলনের চেতনায় উদ্বেল হয়ে দেশের উন্নয়নের অঙ্গীকার নিয়ে এ সকল নেতৃবৃন্দ ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এভাবেই তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন, দেশের অগ্রগতির জন্য একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে।