বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৩:৩৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেলো সরবরাহ সংকটের কারণে, যা মূলত মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান অচলাবস্থার ফল৷ এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উভয় সূচকই ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, আজ লেনদেনের শুরুতে ব্রেন্ট ফিউচার তেল প্রতি ব্যারেল ২৪ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ বেড়ে ৭০.৫৯ ডলার এ দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেল ২৮ সেন্ট বা ০.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৬৫.৪৭ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত বুধবারও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে এর আগের ৩০ জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই অস্থিতিশীলতার মূল কারণ হলো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা। বিশেষ করে, হরমুজ প্রণালিতে যদি জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। কারণ, বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহণ হয়। গত মঙ্গলবার ইরান কিছু সময়ের জন্য এই প্রণালী বন্ধ করে রাখলে বিশ্বজুড়ে সরবরাহের উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি, স্যাটেলাইট ছবি দেখিয়েছে যে, ইরান তার স্পর্শকাতর অঞ্চলগুলোতে নতুন স্থাপনা নির্মাণ করছে এবং দক্ষিণ অঞ্চলে রকেট ছোঁড়ার পরিকল্পনা করছে, যা জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এই অঞ্চলে শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। এছাড়া, জেনেভায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরোক্ষ আলোচনা চললেও বড় ধরনের দ্বৈতনীতি আর অচলাবস্থায় কোনো সুবিধাজনক সমাধান সম্ভব হয়নি। হোয়াইট হাউস জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরান পরবর্তী আলোচনার জন্য বিস্তারিত তথ্য নিয়ে ফেরত আসবে, তবে বর্তমান পরিস্থিতি এবং অস্বস্তি বজায় থাকায় বাজারের অনিশ্চয়তা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। নিসান সিকিউরিটিজের প্রধান কৌশলবিদ হিরোয়ুকি কিকুকাওয়ার মনে করেন, উত্তেজনা থাকলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেলের দাম বেশি বাড়াতে চান না, কারণ এতে মার্কিন অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে, যে কোনও সামরিক পদক্ষেপের সীমিত ও স্বল্পমেয়াদি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘর্ষের নতুন মোড় বিশ্বশান্তির জন্য আরও বড় অশান্তি সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি, জেনেভায় সংঘর্ষের আলোচনা চূড়ান্ত ফল না দিয়ে শেষ হলে শঙ্কা আরও বেড়ে যায়। পাশাপাশি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুত কমে আসা, যা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফেব্রুয়ারি মাসের হিসাব অনুযায়ী, তেলের মজুতে বড় ধরনের হ্রাস দেখা গেছে, যদিও আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন আসার অপেক্ষায় রয়েছে মার্কিন জ্বালানি প্রশাসন। এই সংকটের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি হয়েছে, যা চালিয়ে যাচ্ছে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা। SHARES অর্থনীতি বিষয়: