সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপির আলোচনা শুরু

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে এবার সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য আলোচনা সরগরম। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সম্প্রতি জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন রমজান মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ঈদের আগে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে যায়। বিএনপি এবং তার অঙ্গসংগঠনের নেত্রীরা এ বিষয়ে তৎপর হয়ে উঠেছেন, তাদের মনোনয়ন সংগ্রহের জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। বিশেষ করে, বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে যারাই মহিলা নেত্রীর ভূমিকায় ছিলেন, তারা এখন সংরক্ষিত নারী আসনের দাবিদার হিসেবে এগিয়ে এসেছেন।

জানা গেছে, এবারের আসনে বিএনপির হাইকমান্ড মূলত ত্যাগী ও তরুণ নেতাদের জন্য স্থান করে দিতে চাচ্ছেন। তাদের সঙ্গে প্রবীণ নেত্রীরাও রয়েছেন। ২০০১ সালে যারা সংরক্ষিত আসনের এমপি ছিলেন, কিন্তু বয়সের কারণে রাজনৈতিক জীবন থেকে অবসর নেওয়া অনেকেই আবার ফিরে আসার সুযোগ দেখতে পারেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনের আলোচনায় প্রথমে থাকছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, যিনি ২০০১ সালে সংরক্ষিত আসনে এমপি ও মন্ত্রী ছিলেন। তার পাশাপাশি, মহিলা দলের সভাপতি ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, এবং যুব মহিলা লীগের যুগ্ম-সম্পাদক হেলেন জেরিন খানসহ অন্যান্য নেত্রীরা উঠে আসছেন।

এছাড়াও, এই তালিকায় রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ছাত্রদল নেতা আরিফা সুলতানা রুমা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী, ও সিলেটের সাবেক সাংসদ ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেন।

সংলাপে রয়েছে আরও প্রার্থীর নাম, যেমন—বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সাবেক এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি, বিএনপির মিডিয়া সেলে সক্রিয় শাম্মী আক্তার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেত্রী ও সাবেক এমপি আসিফা আশরাফী পাপিয়া, রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আক্তার রানু, ইয়াসমিন আরা হক, জাহান পান্না, বিলকিস ইসলাম ও ফরিদা ইয়াসমিন।

বিএনপি নেত্রী নিপুন রায় চৌধুরী, যিনি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ, মাওখেলাদের মধ্যে একজন। আরও রয়েছেন মহিলা দল নেত্রী ও সাবেক ছাত্রনেত্রী অধ্যাপিকা রোকেয়া চৌধুরী বেবী, শাহানা আক্তার সানু, নিয়াজ হালিমা আর্লি, রাবেয়া আলম, ঝালকাঠি জেলা বিএনপির নেত্রী জেবা আমিন খান।

অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী শওকত আরা উর্মি, সেলিনা সুলতানা নিশিতা, নাদিয়া পাঠান পাপন ও শাহিনুর সাগর। আরও উপস্থিত থাকবেন চেমন আরা বেগম, কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনিন ও কনক চাঁপাও।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, রমজান চলাকালে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন দ্রুত শেষ করতে চায় তারা, যাতে ঈদের আগে整个 প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সংবিধান অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের ৯০ দিনের মধ্যে এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়।

বর্তমানে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি ২১১টি আসনে জয়ী হয়েছে, যার ফলে তারা সংরক্ষিত আসনে পাবে ৩৬টি আসন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়ী হয়েছে, যার মধ্যে নারী আসনের জন্য ১২টি আসন বরাদ্দ। এনসিপি ৬টি আসনে জিতলেও তাদের সংরক্ষিত আসনে পেতে পারে ১টি, এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ৭টি আসনে জিতলেও একটিতে পেতে পারেন।