মাতৃভাষা দিবসে বাংলায় কথা বলে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের শুভেচ্ছা

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের পবিত্র আমেজে শুক্রবার ঢাকাসহ সারাদেশে গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে দিনটি। এই মহান দিনে বাংলাদেশের জনগণের সাথে সংহতি প্রকাশ করে এবং বাংলায় কথা বলে আন্তর্জাতিক স্তরে একুশে ফেব্রুয়ারির গুরুত্বের কথা তুলে ধরেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।শনিবার সকালে মার্কিন দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বাংলা ভাষায় শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ভাষা প্রতিটি মানুষের সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং তার অমোঘ অংশ। তিনি আরও বলেছিলেন যে, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের অবদান আজও আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, মাতৃভাষা আমাদের স্বকীয়তা ও ঐতিহ্যের মূল স্তম্ভ। তিনি ন্যূনতম ভাষায় বললেন, এই ঐতিহাসিক দিনটি আমাদের জন্য এক আবেগের আঙিনা, যেখানে আমরা সম্মান জানাই আমাদের ভাষার জন্য জীবনবাজি রাখা বীর শহীদদের। এই উপলক্ষে, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হচ্ছে। প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদদের প্রতি গভীর সম্মান জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে সঙ্গে মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে দাঁড়িয়ে শহীদদের স্মৃতি স্মরণ করেন এবং আত্মার শান্তি কামনা করেন। এরপর মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সেনা, নৌ, ও বিমান বাহিনী প্রধানদের পাশাপাশি বিদেশি কূটনীতিকরাও পুষ্পস্তবক অর্পণ করে এই দিনে সম্মান জানান।রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের পরে শহীদ মিনার সাধারণ মানুষদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ভোরের আলোর সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষ শহীদ মিনারে পৌঁছে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটির মোহময় সুরে সবার জমায়েত আরও আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠে। নারী, পুরুষ, শিশু—সবার দীর্ঘ লাইন দেখে বোঝা যায় আমাদের ইতিহাসের গভীর তাৎপর্য। এই দিনটি কেবল ঢাকায় নয়, দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, এবং দেশের বাইরে বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাংলায় শুভেচ্ছা বার্তা এবং আন্তর্জাতিক মহলের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ একুশের গুরুত্বকে বৈশ্বিক মহলে আরও উপরে নিয়ে গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাষ্ট্রদূতের এই ভাষ্য বাংলাদেশের নিজেদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ধারণের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা। আজ বিশ্বব্যাপী ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষার মাধ্যমে এই দিবসকে অভিন্ন শক্তিতে পরিণত করেছে, যা ১৯৫২ সালের সাহসিকতা ও সংগ্রামের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।