ইসরায়েলে ‘ফিলিস্তিনপন্থি’ মার্কিন সাংবাদিক কার্লসন আটক

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৪৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬

ইসরায়েলে থাকা মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবির সাক্ষাৎকার নেওয়ার পরপরই দখলদার ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় সাংবাদিক ও উপস্থাপক টাকার কার্লসনকে আটক করে। তার সহকর্মীদেরও হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ব্যাপক জেরার মুখে পড়েন কার্লসন ও তার দল।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এই সাংবাদিকের মার্কিন পররাষ্ট্র নীতির প্রতি নানা সময় মতবিরোধ দেখা দেয়। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) হাকাবির সঙ্গে সাক্ষাত্কারের উদ্দেশ্যে ইসরায়েলে পৌঁছান তিনি।

সাক্ষাৎকারের আগে সামাজিক মাধ্যমে কার্লসন দাবি করেন, ইহুদিরা ফিলিস্তিনি ভূমিতে বসতি স্থাপনের আদর্শিক অধিকার রাখে এবং তিনি ফিলিস্তিনিদের জাতীয় পরিচয় অস্বীকার করেন। এর আগে সামাজিক মাধ্যমে তার ও হাকাবির মধ্যে ব্যাপক বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।

কার্লসন ইসরায়েলে খ্রিস্টানদের প্রতি আচরণের প্রতিবাদ করেন, বিশেষ করে পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমে ইসরায়েলি বসতیکارীরা হামলার মুখে থাকা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সুরক্ষার জন্য সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, খ্রিস্টানদের বিভিন্ন হয়রানির মধ্যে রয়েছে থুতু নিক্ষেপ, শারীরিক ভীতি, কবরস্থান ও অন্যান্য সম্পত্তি বিনষ্ট ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান ব্যাহত হওয়া।

ডেইলি মেইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কার্লসন জানান, ইসরায়েলের নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেওয়া একদল তাদের পাসপোর্ট জব্দ করে এবং তার এক সহযোগীকে আলাদা কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিমানবন্দরে ছিলাম এবং দেখলাম কিছু ব্যক্তি নিজেদের নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলে পরিচয় দিয়ে আমাদের পাসপোর্ট নিয়ে গেছে। আমাদের নির্বাহী প্রযোজককে অন্য কক্ষে নিয়ে যায় এবং তারা কী বলেছি তা জানার জন্য প্রশ্ন করে। এটা খুবই অদ্ভুত পরিস্থিতি ছিল। এখন আমরা দেশের বাইরে আছি।’

সাক্ষাৎকারের আগে এক আরাকটিকাল পোস্টে কার্লসন বন্ধু নিল প্যাটেলের সঙ্গে বিমানবন্দরে এক ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘ইসরায়েল থেকে শুভেচ্ছা।’ তার লাখো অনুসারী রয়েছে সোশাল প্ল্যাটফর্মে। এই জনপ্রিয় ডানপন্থী কণ্ঠটি মার্কিন রাজনীতিতে ইসরায়েলের প্রভাব, বিশেষ করে ইরান ও অন্য উপকরণশত্রুদের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে লবিংয়ের বিষয়টি সমালোচনা করেন। তিনি গাজায় ইসরায়েলের সামরিক আক্রমণকে ‘গণহত্যা’ বলে আখ্যা দেন। এর জবাবে হাকাবি সম্প্রতি প্রকাশ্যে বলেন, ‘আমাকে নিয়ে কথা বলার বদলে, কেন আসছেন না আমার সঙ্গে? ’ কার্লসন সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেন।

অক্টোবরের শেষের দিকে, গাজায় ইসরায়েলের দাবি করা গণহত্যার প্রতিবাদে মার্কিন এক প্রো-ইসরায়েল লবিং গ্রুপের কারণে কার্লসনকে ‘বছরের ইহুদিবিদ্বেষী’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়।

এর আগে জানিয়েছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ প্রথমে কার্লসনকে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। মার্কিন দূতাবাস উভয় পক্ষের আলোচনা শেষে এ ব্যাপারে সমঝোতা হয়। চ্যানেল ১৩ অনলাইনে জানায়, ‘যেহেতু এই ঘটনাকে কূটনৈতিক সংকট এড়ানো জন্য প্রবেশ অনুমতি দেওয়া হয়।’

মার্কিন দূতাবাস দাবি করেছে, কার্লসনের এই সফর বা প্রস্থান কোন কিছুই স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ কর হয়েছে। এক প্রতিনিধি বলেন, ‘শুধু সাক্ষাৎকারের জন্য ইসরায়েলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, অন্য যেকোনো পর্যটকের মতোই তিনি স্বাভাবিক আচরণ করেছেন।’

অপরদিকে, মার্কিন রক্ষণশীল ভোটাদের মধ্যে ইসরায়েল-সংক্রান্ত নীতির জন্য সমালোচনাও রয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইসরায়েলের প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরে প্রান্তিকভাবে কথা বলে থাকেন। এ ছাড়া, কার্লসন মার্কিন ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (এআইপিএসি)-এর প্রভাবেরও সমালোচনা করেন, অভিহিত করেন এটিকে মার্কিন সরকারের জন্য অপমানজনক প্রক্রিয়া।

যদিও ইসরায়েল ও মার্কিনির মধ্যে মতভেদ থাকলেও কার্লসন ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছাকাছি রয়েছেন এবং সম্প্রতি ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে সাক্ষাৎ করেছেন।

এদিকে, সাবেক মার্কিন প্রতিনিধি মার্জোরি টেইলর গ্রিন বলেন, মার্কিন নাগরিক ও সাংবাদিক টাকার কার্লসনকে ইসরায়েলে আটক করা হল, যা তারা মানতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘আমরা এটা কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছি না। বিষয়টি আরও খারাপ হয়ে উঠছে।’