টি-টোয়েন্টিতে ভুল করলে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন: রশিদ খান

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৮:৪৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬

২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর থেকে আফগানিস্তান অনেকটাই নিভ feelে বিদায় নিল। গতবারের সেমিফাইনালিস্ট দেশের জন্য এই টুর্নামেন্ট ছিল বিশাল চ্যালেঞ্জ এবং হতাশার। শুরুতেই তারা ‘গ্রুপ অব ডেথ’-এ পড়ে বড় ধরনের ধাক্কা খায়, যেখানে নিউজিল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হয়। প্রথম দুই ম্যাচেই পরাজয় স্বীকার করতে হয় আফগানিস্তানকে, যার ফলে পরবর্তী ম্যাচগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ হলেও তারা সাধারণত নিজেদের মর্যাদার জন্য লড়াই চালিয়ে যায়। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পরপর দুটো সুপার ওভার পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে হার মানতে হয় তাদের। এই অকাল বিদায় তাদের জন্য ছিল খুবই দুঃখজনক ও হতাশাজনক। এই পরিস্থিতিতে দলের অধিনায়ক রশিদ খান নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ধরনই এমন—একটি ছোট ভুলও পুরো ম্যাচের পরিবর্তন করতে পারে। একবার পথ হারালে আবার ফিরে আসার সুযোগ খুবই কম। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মাত্র চার দিনের ব্যবধানে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দুই পেসার দলের মুখোমুখি হওয়া তাদের জন্য ছিল শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেক কঠিন। এই সূচির চাপ এবং মাঠে ছোটখাটো ভুলগুলোই finalement তাদের বিশ্বকাপের স্বপ্নকে ধূলিস্যাত করে দিয়েছে। তবে এই খারাপ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তারা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন রশিদ।

আফগান ক্রিকেটের জন্য এই বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে এক বড় অধ্যায়ও সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। দলের প্রধান কোচ জনাথন ট্রট তাঁর দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। রশিদ খানের নেতৃত্বে আফগান দলের অনুকরণীয় ওঠানামায় ট্রটের অবদান অপ্রতিদ্বন্দ্বী। কোচের বিদায়ে দল ঐক্যবদ্ধভাবে অপেক্ষা করছে নতুন পরিস্থিতির, যেখানে রশিদরা দলের মানসিকতা ও ধৈর্য্য ধরে রাখতে পারবেন। তাঁর এই প্রস্থান আফগান দলে বড় শূন্যতা সৃষ্টি করবে, যা পূরণ করতে হবে সামনে। ভবিষ্যতে এই শূন্যতা পূরণ করে দলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে রশিদ ও তার সতীর্থদের জন্য।

বিশ্বকাপের হতাশাজনক ফলাফল ছাড়াও রশিদ খান এখন বড় দায়িত্বের মুখোমুখি। নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া, তরুণ ক্রিকেটারদের পথ দেখানো এবং তাঁদের উদ্বুদ্ধ করাই হবে তার সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ। ২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিতব্য ওয়ানডে বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে এখন থেকেই নতুন পরিকল্পনা গ্রহন করছে আফগানিস্তান। নেতৃত্বের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে এবং বড় মঞ্চে স্নায়ু শান্ত রাখার মন্ত্র নিয়ে তারা আবারও নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর জন্য প্রস্তুত। এই অকাল বিদায় হয়তো রশিদ ও তার দলকে নতুন দৃঢ়তা, নতুন অনুপ্রেরণা এবং ভবিষ্যতের জন্য বড় শিক্ষা দিলো।