সরবরাহ সংকটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় উল্লম্ফন Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৮:৩৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে চলমান আলোচনা অচলাবস্থার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উভয় সূচকেই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি প্রকাশ পেয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, লেনদেনের শুরুর দিকে ব্রেন্ট ফিউচার তেলের মূল্য প্রতি ব্যারেল ২৪ সেন্ট বা দুশো বিস্তার করে ৭০.৫৯ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিন পশ্চিম টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৬৫.৪৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা দুই সেন্ট বা দাশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি। উল্লেখ্য, গত বুধবারও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়, যা ৩০ জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ স্তর বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে এই অস্থিরতা মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আভাসের কারণে তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে বিশ্ববাণিজ্যে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হতে পারে। এই সংকটের কারণ হলো, এই জলপথ দিয়ে মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। এর আগেও, গত মঙ্গলবার ইরান কয়েক ঘণ্টার জন্য এই প্রণালিটি বন্ধ করে দিলে বিশ্বব্যাপী সরবরাহের দিক থেকে উদ্বেগ বাড়ে।satellite চিত্রে দেখা গেছে, ইরান তার স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নতুন স্থাপনা গড়ে তুলছে এবং দক্ষিণাঞ্চলে রকেট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও এই অঞ্চলে শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। জেনেভায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরোক্ষ আলোচনা চললেও গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পার্থক্যের কারণে এখনই কোনো ফলাফলের আশা ক্ষীণ। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তেহরান পরবর্তী আলোচনা জন্য নতুন তথ্য নিয়ে ফিরবে বলে প্রত্যাশা থাকলেও, এই পরিস্থিতির কারণে বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। নিসান সিকিউরিটিজের প্রধান কৌশলী হিরোয়ুকি কিকুকাওয়ার বলছেন, উত্তেজনা থাকার পরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের পক্ষ থেকে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়াতে চান না, কারণ এতে মার্কিন অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে, কোনো সামরিক পদক্ষেপ হলেও তা সীমিত ও স্বল্পমেয়াদী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া, রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের নতুন মোড় এবং জেনেভায় শেষ হওয়া শান্তি আলোচনাসহ বিভিন্ন ঝুঁকি বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। মার্কিন মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কাও দামে প্রভাব ফেলছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুত বাড়ার পূর্বাভাস থাকলেও, বাস্তবে পেট্রোল ও ডিস্টিলেটের চাহিদা কমে যাওয়ায় সরকারি প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এর ফলে, সরবরাহ ও চাহিদার এই টানাপোড়েন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন সংকটের সৃষ্টি করছে। SHARES অর্থনীতি বিষয়: