শিক্ষামন্ত্রী: অটোপাশের সংস্কৃতিতে ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৮:৩১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ নতুন সরকারের শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষাখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য এক শক্তিশালী ও স্পষ্ট বার্তা দিলেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি সাফ বলে দেন যে, আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা বা ‘মব’ তৈরি করে অটোপাশের নেতিবাচক সংস্কৃতি গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে প্রচুর ক্ষতি ডেকে এনেছে। এই রকম অবৈধ প্রথাতে ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই স্পষ্ট ঘোষণা দেন। শিক্ষামন্ত্রী মনে করেন, একটি উন্নত জাতি গঠনে মেধাভিত্তিক মূল্যায়নের বিকল্প কিছুই নেই। যেখানে অটোপাশের মতো প্রথা দেশের ভবিষ্যতের প্রজন্মের জন্য হুমকি স্বরূপ। তিনি আরো বলেন, অতীতে দেখা গেছে যে শিক্ষার্থীরা রাজপথে মব তৈরি করে বা প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে পরীক্ষা ছাড়া পাসের দাবির পক্ষে আন্দোলন করে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা সফলও হয়। তবে বর্তমান সরকার এই ধরনের কোনো অযৌক্তিক দাবি সহ্য করবে না। স্পষ্টভাবে তিনি উল্লেখ করেন, দেশ আর সেই অরাজক সংস্কৃতিতে ফিরে যাবে না; বরং পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর মেধা মূল্যায়নই হবে মূল মাধ্যম। শিক্ষা পরিবেশকে সচল রাখতে সরকার কোনো মতেই বিশৃঙ্খলা পরিচালনা হতে দেবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। শিক্ষক সমাজের প্রতি বিশেষ বার্তা দিয়ে আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষকতা ও আন্দোলনের নামে রাজপথে সক্রিয় থাকা পেশাদারিত্বের পরিপন্থী। তিনি শিক্ষকদের ‘মানুষ গড়ানোর কারিগর’ হিসেবে অভিহিত করে তাঁদের প্রতি সরকারের পূর্ণ শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। তবে পরামর্শ দেন, যদি শিক্ষকদের কোনও দাবি বা অভিযোগ থাকে— তা অবশ্যই যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় মন্ত্রণালয়ে পেশ করতে হবে। সরকার নিজে থেকেই জানে কোন অধিকারগুলো নিশ্চিত করতে হবে আর কোনটা সম্ভব নয়। ফলে রাজপথ দখল করে জনজীবন বিপর্যস্ত করার দরকার নেই। মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সরকারের একটি সুস্পষ্ট ও আধুনিক ‘ভিশন’ বা পরিকল্পনা রয়েছে। সেই লক্ষ্য অর্জনে এখন থেকেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজের অগ্রাধিকার ঠিক করবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সমাজ এই গঠনত্মক এবং কঠোর বার্তাগুলো ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবেন এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে একসাথে কাজ করবেন। মূলত, এক জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠাই হবে নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য। সচিবালয়ে তাঁর এই বক্তব্য শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং বিশেষজ্ঞরা এটিকে শৃঙ্খলা ফেরানোর প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছেন। SHARES জাতীয় বিষয়: