নিষেধাজ্ঞা ছাপিয়ে চীনকে কেন্দ্র করে রাশিয়ায় বিদেশী গাড়ির বিক্রির নতুন ধারায় রাশিয়ার অর্থনীতি সচল

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার বাজারকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে অটোমোবাইল শিল্পে এই নিষেধাজ্ঞাগুলি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে, এর মূল কারণ হচ্ছে চীনের আশপাশে গড়ে উঠা বৃহৎ এক অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্য জাল বা ‘গ্রে মার্কেট’। এই পথে রাশিয়ায় বিশিষ্ট ব্র্যান্ডের গাড়িগুলো সরাসরি না বিক্রি করেও, সফ্টওয়্যার ও ব্যবস্থাপনা ব্যবহারের মাধ্যমে নিয়মিত প্রবাহিত হচ্ছে জাপানি, ইউরোপিয়ান এবং জার্মান ব্র্যান্ডের গাড়িগুলো। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের নিরীক্ষায় জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল কাটিয়ে বিকল্প পথে রাশিয়ার অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই চাঞ্চল্যকর প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।

রাশিয়ার অটোমোবাইল গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘অটোস্ট্যাট’-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পশ্চিমা আর জাপানি কোম্পানিগুলো সরাসরি রাশিয়ায় ব্যবসা বন্ধ করলেও, রুশ ডিলাররা এখন চীন কেন্দ্রিক ব্যবসায়ী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গাড়ি সংগ্রহ করে থাকছেন। এর বড় অংশ এখন চীন থেকে আমদানিকৃত বিদেশি ব্র্যান্ডের গাড়ি, যা বিভিন্ন কূটনৈতিক ও আইনি সীমাবদ্ধতা এড়িয়ে যান। বিশেষ করে, নির্মাতাদের অনুমোদন ছাড়াই নতুন গাড়িগুলিকে প্রথমে চীনে ‘ব্যবহৃত’ বা ‘দ্বিতীয় হাত’ হিসেবে নিবন্ধন করিয়ে, পরে রাশিয়ায় রফতানি করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে নির্মাতাদের বৈধ অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে না, ফলে আইনি ঝামেলা এড়ানো যায়। পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২৫ সালে রাশিয়ায় বিক্রি হওয়া প্রায় এক লাখ ত্রিশ হাজার বিদেশি গাড়ির অর্ধেকেরও বেশি এই রুটে এসেছে। ২০২২ সালে যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত, প্রায় সাত লাখের বেশি বিদেশি ব্র্যান্ডের গাড়ি এই বিকল্প পথে রাশিয়ায় বিক্রি হয়েছে।

একই সময়ে, মার্সিডিজ-বেঞ্জ, বিএমডব্লিউ, ফক্সওয়াগনের মতো শীর্ষস্থানীয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো নিশ্চিত করছে যে, তারা রাশিয়ায় পণ্য বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ রেখেছে এবং অননুমোদিত রফতানি ঠেকাতে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে। তবে তারা স্বীকার করছে, এই অবৈধ সরবরাহ বন্ধে তৃতীয় পক্ষ বা মধ্যস্বত্বভোগীদের কাজে আসছে, যা কঠিন ও সময়সাপেক্ষ। ডিলাররা জানিয়েছেন, রাশিয়ার ধনী গ্রাহকদের মধ্যে পশ্চিমা ব্র্যান্ডের প্রতি প্রবল আকর্ষণ থাকায় এই বিকল্প পথে গাড়ি আমদানি অব্যাহত রাখতে তারা বাধ্য হচ্ছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র এই বিকল্প বাণিজ্য অনিয়ম প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ালেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, এই পথে গোপন ও অবৈধ ইনপোর্টের সংখ্যা এত বেশী যে পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন। চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে গাড়ির অতিরিক্ত সরবরাহ থাকায়, তাদের সরকার রফতানিতে বিভিন্ন ভর্তুকি দিয়ে ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করছে। ফলে, বিশ্বরাজনীতির মেরুকরণ আর নিষেধাজ্ঞার সাংঘাতিক প্রভাবকে বাইপাশ করে, রাশিয়ার রাস্তায় এখনো আধুনিক, দামি বিদেশি গাড়ির দাপট অব্যাহত রয়েছে। এটি রাশিয়ার অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতার এক অনন্য উদাহরণ ও ভাষ্য। এই পরিস্থিতি পরিলক্ষিত করে উচ্চ পর্যায়ের পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলছে।