ছাত্রনেতা থেকে জননেতা, জহির উদ্দিন স্বপন মন্ত্রিসভায় শপথ

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬

জহির উদ্দিন স্বপনের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে, যখন তিনি ছাত্রনেতা হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। ছোট সময় থেকেই আন্দোলনের সাথে जुড়ে থেকে তিনি দেশের স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। কিছু বছর পর বিএনপিতে যোগদানের মাধ্যমে তার রাজনীতির পথপ্রদর্শন শুরু হয়। ধাপে ধাপে তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসেন, যেমন ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক। এখানে তাঁর নেতৃত্বে দলের মিডিয়া সেল গঠন এবং জনপ্রিয়তা অর্জন হয়। তাঁর কঠোর পরিশ্রমের ফলস্বরূপ তিনি পরবর্তীতে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান।

বঙ্গোপসাগরীয় আবহে তিনি নতুন সরকারের পক্ষ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবেন এই প্রত্যাশায় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৬ সালে বরিশাল-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে প্রথম নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে। এরপর ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, এবং ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবারের নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে জেতেন বিশাল ভোটে—১ লাখ ৫৫২ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কামরুল ইসলাম খান, যিনি পেয়েছেন ৪৬ হাজার ২৬৩ ভোট। স্বপন পেয়েছেন প্রায় ৫৪ হাজার ভোটের বড় ব্যবধানে জয়ী হয়ে দেড় দশকের অপেক্ষার পর আসনটি পুনরুদ্ধার করেন। এই সকল সংগ্রাম তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে এক বিশাল মাইলফলক।

বিএনপির এই নিবেদিতপ্রাণ নেতার মন্ত্রীত্বের খবর শুনে এলাকায় ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। বিকেলে স্বপনের সমর্থকরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মিষ্টি বিতরণ করেন এবং আনন্দ মিছিল বের করেন। কর্মী-সমর্থকরা “স্বপন ভাই স্বপন ভাই” স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৯৬ সালে, যখন তিনি প্রথমবার সংসদে যান। ২০০১ সালে দ্বিতীয়বার এবং ২০১৮ সালে তৃতীয়বারের মত তিনি সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। এই দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি জাতীয় সংসদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী কমিটিতে কাজ করেছেন। তিনি পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি এবং সংস্থাপন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। দুবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি, মানবাধিকার, আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও মানব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করা আন্তর্জাতিক ‘পার্লামেন্টারিয়ানস ফর গ্লোবাল অ্যাকশন’ (পিজিএ)-এর এশিয়া অঞ্চলের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক যুব ও ছাত্র সংগঠনের সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

অধ্যাপক স্বপন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তার মূল দক্ষতার মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক কৌশল প্রণয়ন, নীতি বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা।

মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বপন বলেন, ‘বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের আস্থা ও ভালোবাসার জন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাদের সমর্থন ও বিশ্বাসের মূল্য দিতে চাই। দেশের স্বার্থে দায়িত্ব পালন করতে আগ্রহী। বিএনপি চেয়ারপারসন는 তারেক রহমানকে এলাকার জনগণের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’