কুমিল্লার তিন মন্ত্রী পেয়ে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় জনগণ

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬

কুমিল্লায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার গঠিত হচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভা, যা নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা ও উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে জেলার প্রান্ত থেকে প্রান্তে। এই তালিকায় থাকা তিনজন মন্ত্রীর মধ্যে ধর্মমন্ত্রী কাইজে শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, বরুড়ার মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন ও কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন—তাদের নিয়ে এলাকায় আনন্দের জোয়ার বইছে। তাঁদের জনপ্রিয়তা ও কাজের জন্য সবাই তাদের উচ্ছ্বসিতভাবে স্বাগত জানাচ্ছে।

ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ, যিনি গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন, এবার দেশের ফিরে আসার পর কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে ধানের শীষের প্রতীকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। তিনি অর্ধলাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করেছেন। এর পুর্বে ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯১, ২০০১ ও ২০০৮ সালে তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন এবং হুইপ ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। এলাকাবাসীর মধ্যে তার জন্য আলাদা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা তৈরি হয়েছে। মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া একে ‘দাদা ভাই’ হিসেবে জানিয়ে বলেছেন, তার নির্বাচনে বরুড়াসহ পুরো উপজেলায় উৎসবের আবাহবান সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, বরুড়ার এমপি জাকারিয়া তাহের সুমন, যিনি ৭৮ বছর পর প্রথমবারের মতো এই আসনে মন্ত্রী হয়েছেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি ১৯৪৮ সালে বরুড়া উপজেলা প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই প্রথম এই পদে আসীন হন। তিনি বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি। তার জন্য এলাকায় ব্যাপক অভিনন্দন ও প্রত্যাশা প্রকাশ করা হচ্ছে। সাহসী এই নেতার নেতৃত্বে বরুড়া দ্রুতই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, যিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন, কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পেয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও দলের অনুরোধে তিনি প্রার্থী ওঠেননি। তিনি দলের জন্য কাজ করে চলেছেন ও দলের জন্য সমন্বয় সাধন করে নিজের ব্যক্তিগত সম্ভাবনাকে ছেড়ে, দলের স্বার্থে কাজ করছেন। তিনি ১৯৯৬ সালে কুমিল্লা-৯ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং দীর্ঘ দিন দলীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। এই প্রবর্তনে জেলার মানুষের মাঝে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়েছে।

সাধারণত সেই তিনজনের যোগদানে জেলা তথা পুরো এলাকা উন্নয়নের নতুন দিগন্তের আশায় প্রতীক্ষা করছে, বিভিন্ন নেতা-কর্মী মনে করছেন, এই নতুন সংযোজন কুমিল্লার উন্নয়নে নতুন দিশা দর্শাবে। লক্ষ্য করে বলা যায়, এই তিনজন নেতার এই যোগদান জেলার সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি আরও ত্বরান্বিত করবে।