বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান করে ওমানকে হারাল আয়ারল্যান্ড

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৪৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬

চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আজ লরকান টাকারের ব্যাটিং দক্ষতায় ধারেকাছে না থাকা ওমানের বিপক্ষে বিশাল জয় হাসিল করেছে আয়ারল্যান্ড। চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় আয়ারল্যান্ড। নির্ধারিত ২০ ওভারে তারা ৫ উইকেট হারিয়ে ২৩৫ রান সংগ্রহ করে, যা এই আসরের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। লক্ষ্য ছোঁয়ার জন্য নেমে ওমান শুরুতেই বিপর্যস্ত হয়; তারা ১৮ ওভারে মাত্র ১৩৯ রানে অলআউট হয়, ফলে আয়ারল্যান্ডের বড় জয়ের সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হয়। এটি চলতি টুর্নামেন্টে রান ব্যবধানে তৃতীয় বৃহৎ জয়ের রেকর্ড হিসাবেও রেকর্ডে ঠাঁই নেয়।

আয়ারল্যান্ডের শুরুটা ছিল বেশ কঠিন। নিয়মিত অধিনায়ক পল স্টার্লিংয়ের অনুপস্থিতিতে দায়িত্বে থাকা লরকান টাকারের জন্য প্রথমদিকে বীক্কের পরিস্থিতি একটুও সুখকর ছিল না। পাওয়ার প্লেতে তারা ৩ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৪৭ রান সংগ্রহ করে। এরপর ধাক্কা সামাল দিতে পাল্লা দেন দলের হার্ডহিটার গ্যারেথ ডিলান ও টাক। ডিলানি ৩০ বলে ঝড়ো ৫৬ রান করেছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত বিদায় নেন। টাক তখনও মাঠ ছাড়েননি; তিনি শেষ পর্যন্ত ৯৪ রানে অপরাজিত থাকেন, ৫১ বলের ইনিংসে ১০টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে। তাঁর এই ব্যাটিং ভুল করেননি, ছেড়ে দেননি দলের আশা। এর পাশাপাশি জর্জ ডকরেল ৯ বলের মধ্যে ৫টি ছক্কার মাধ্যমে ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন। ট্যাকের ও ডকরেলের ১৯ বলের জুটিতে ৭০ রান যোগ হয়, এবং এই রানের গড় ছিল ২২.১০—যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ। তারই ফলে অধিনায়ক হিসেবে তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ স্কোরের রেকর্ডও তৈরি হয়। যদিও তিনি সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৬ রানে দূরে ছিলেন।

ওজনে রান তাড়ার জন্য মাঠে নামে ওমান, তবে শুরুতেই তারা লড়াকু মানসিকতা দেখাতে সক্ষম হয়। ১০.৫ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১০০ রান সংগ্রহ করে, যা ম্যাচে ফিরে আসার আশায় প্রমাণ ছিল। বিশেষ করে আমির কালিম ও হাম্মাদ মির্জার ৭৩ রানের দুর্দান্ত জুটিটি আইরিশ বোলারদের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কালিম ৫০ রান করেন এবং মির্জা করেন ৪৬ রান। তবে এই জুটির ভাঙনের পর ওমানের ব্যাটিং ভেঙে পড়ে যেন তাসের ঘরে। শেষের সাত উইকেট পড়ে মাত্র ৪২ রানে। জশ লিটলের শুল্কিত ও কার্যকরী বোলিংয়ের সামনে আর কেউ টিকে থাকতে পারেনি, এবং ওমানের ইনিংস ১৮ ওভারে শেষ হয় ১৩৯ রানে।

এই বিশাল জয় আয়ারল্যান্ডের টুর্নামেন্টে অবস্থানকে বেশ শক্তিশালী করে তুলেছে। দলটির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক লরকান টাকারের দুর্দান্ত ব্যাটিং ও জর্জ ডকরেলের বিস্ফোরক ক্যামিও বিশাল সুবিধা এনে দিয়েছে, যা জশ লিটলের शानदार বোলিংয়ের মাধ্যমে সুরক্ষিত হয়েছে। অন্যদিকে, ওমান শুরুতেই লড়াই করলেও ব্যাটিং বিপর্যয় দায়ে বড় পরাজয়ের মুখোমুখি হয়। ওমানের শাকিল আহমেদ ৩ উইকেট নিলেও, এই রানে দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব হয়নি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ওমানের বিরুদ্ধে এই বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আয়ারল্যান্ড তাদের শক্তি ও সামর্থ্য নতুনভাবে প্রমাণ করল।