সৌদি আরবে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে, জানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৪৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬

ইরানের পূর্বসূরি এবং বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, সৌদি আরবের কাছে বর্তমানে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে এবং এই তথ্য সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অনেক আগে থেকেই অবগত। এছাড়াও, ইসরায়েলও এই বিষয়টি জানে বলে ইরানের ইসলামী রেভুল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি)-এর সাবেক কমান্ডার হুসেইন কানানি প্রকাশ করেছেন। তিনি গত মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরটিতে এক সাক্ষাৎকারে এই বিস্ফোরক দাবি করেন।

কানানির ভাষ্য, তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেন, সৌদি আরবের কাছে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রও এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ সচেতন। ইসরায়েলও এই বিষয়টি জেনে রেখেছে। এরপর তিনি আরও বলেন, “বিক্ষোভের সময় ইসরায়েলি আঁতাতের মোসাদ ও মার্কিন গোয়েন্দারা পেছন থেকে রাজনীতি ও আন্দোলনকে ব্যাহত করার জন্য নানা প্রভাব বিস্তার করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “তাদের (যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল) লক্ষ্য কেবলই ইরানের শাসন প্রদেষ্টা বন্ধ করা নয়, বরং ইরানকে সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার করে ফেলা এবং পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়া।”

প্রায় দু’দশক ধরে ইরানের পরমাণু প্রকল্পকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে উত্তেজনা চলে আসছে। ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এই সম্পর্ক আরও সংকটময় হয়ে ওঠে। এরপর ২০২৫ সালে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠে। বছরজুড়ে সংঘর্ষ ও উত্তেজনার মধ্য দিয়ে চলমান এই পরিস্থিতি চলতেই থাকে।

গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হলে তা সহিংসভাবে দমন করা হয়। এই বিক্ষোভ দমন করতে গিয়ে ট্রাম্প সামরিক অভিযানের হুমকি দেন, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।

বর্তমানে আরব সাগর, লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন বহরের প্রায় পাঁচটি বিমানবাহী রণতরী ও শত শত জাহাজ টহল দিয়ে যাচ্ছে, যা ইরানের জন্য বেশ অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। গত জুন মাসে এই এলাকায় উত্তেজনা আরও বাড়লেও, ইরান আবার সক্রিয়ভাবে সামরিক মহড়া চালাচ্ছে। আরব সাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের উপস্থিতির পরপরই হরমুজ প্রণালী জোটলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক মহড়ার ঘোষণা দেয় ইরান, সাথে আকাশসীমায় উড়োজাহাজ চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

৯ ফেব্রুয়ারি ইরানের আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, যদি মার্কিন সরকার ইরানের ভূখণ্ডে আক্রমণ চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর ইরান কঠোর প্রতিশোধ নিবে। এর কয়েক ঘণ্টা পর কাতারর জেæলুদেইদ সামরিক ঘাঁটিতে মোবাইল মিসাইল লাঞ্চার মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে, হুসেইন কানানির মতে, যুদ্ধ বাধলে প্রথম প্রথম ইরান সরাসরি মার্কিন কেন্দ্রীয় ঘাঁটিগুলোতে হামলা করবে না। তার পরিবর্তে, ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী ইসরায়েলকেই লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে। তিনি বলেন, “মোজাকরা ও একরকম মুরগির খেলা খেলছে মার্কিনরা, তবে তারা জানে না, এই খেলায় ইরান অনেক এগিয়ে আছে, তারা কমপক্ষে ১০ ধাপ এগিয়ে।”