দেশে ভোট উৎসবের শুরু Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৩:৩১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দেশের সবকটি নির্বাচনি কেন্দ্রে একযোগে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় সনদ বিষয়ক ঐতিহাসিক গণভোট। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এ দিনটি হিসেবে গড়ে উঠেছে দেশের গণতন্ত্রের এক আলোঝলমলে দিন। রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি জেলার কেন্দ্রীয় এবং প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকাগুলোতেও ভোটারদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। অনেক ভোটারকে ভোটগ্রহণের নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগে কেন্দ্রে উপস্থিত হতে দেখা গেছে, যা দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতি গভীর উৎসাহের নিদর্শন। এবারের নির্বাচনে ভোটাররা দুটি আলাদা রঙের ব্যালট পেপারে তাদের সিদ্ধান্ত প্রকাশ করছেন—সাদা ব্যালট সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য এবং গোলাপি ব্যালট গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সংস্কার ‘জুলাই সনদ’ সংক্রান্ত গণভোটের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রে নতুন এক দিক উন্মোচনের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ দশকের বেশি সময় পর এই প্রথম এক মহামূল্যবান ও প্রতিযোগিতামূলক ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর জোট। এই উত্তপ্ত লড়াইয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে আগামী বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা এবং প্রস্তাবিত রাষ্ট্রীয় সংস্কারগুলোর ভবিষ্যৎ পথ। আওয়ামী লীগের তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের পরে দেশের মানুষ চেয়েছিলেন একটি অংশগ্রহণমূলক, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। আজ সেই প্রত্যাশার মূল কথা বাস্তবায়িত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণের জন্য দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ৯ লাখ ১৯ হাজার সেনা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যারা নিরাপত্তার ব্যাপক ব্যবস্থা নিয়ে ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করছেন। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভোটের দিন দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থী মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে, মোট ২৯৯টি আসনে আজ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। এতে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী অংশ নিয়েছেন, এর মধ্যে রাজনৈতিক দল মনোনীত ২৭৩ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। দেশের ভোটার তালিকায় নিবন্ধিত ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজারের বেশি ভোটার আজ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন, যা নারীর পাশাপাশি পুরুষ ভোটারদের মধ্যে সমান তদন্তে উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। সারাদেশে অবস্থিত ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রের মধ্যে প্রায় অর্ধেক অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিও নজিরবিহীন। প্রায় সাড়ে পাঁচশ বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক দেশের ইতিহাসে এই ভোট পর্যবেক্ষণে অংশ নেয়ার জন্য এসেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কমনওয়েলথ, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও ভারতের নির্বাচন কমিশনার ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করছেন। আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদমাধ্যম যেমন আলজাজিরা, বিবিসি, রয়টার্স ও এপির প্রতিনিধি দল সরাসরি ভোটের খুঁটিনাটি দেখছেন। নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছতা নিশ্চিতের জন্য ৯ মাস ধরে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এই সময়ে ৮ লাখের বেশি নির্বাচনি কর্মকর্তা আধুনিক ভোট ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষিত হয়েছেন। ভোটের এক দিন আগে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন জাতির উদ্দেশে সম্প্রচারিত ভাষণে ভক্তিপূর্ণভাবে ভোটারদের কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন সম্পাদনের জন্য কমিশন সাংবিধানিক ও আইনি বাধ্যবাধকতা পালন করছে। তিনি আরও বলেন, জয়-পরাজয় কে বলে স্বাভাবিক এবং প্রত্যাশিত—এ ব্যাপারে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়। ভোটগ্রহণের শেষে আজ সন্ধ্যায় কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণা হবে। পরে রিটার্নিং কর্মকর্তারা চূড়ান্ত ফলাফল সংকলন করবেন। নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী শুক্রবারের মধ্যেই দেশের মানুষ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ও সম্পূর্ণ ফলাফল জানতে পারবে। এই ধরনের সংগ্রামরত দিনগুলো দেখিয়ে দেয় যে, দেশ এখন নতুন রাজনৈতিক গন্তব্যের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। SHARES জাতীয় বিষয়: