কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন প্রস্তাব বাতিলের প্রতিবাদে অর্থ উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৪১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা ও আইনি কাঠামো সংস্কার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা আন্দোলনের প্রেক্ষিতে দেশব্যাপী উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিতকরণের জন্য পরিকল্পিত সংশোধনী প্রস্তাবের বিষয়ে সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে কর্মকর্তাদের মধ্যে গভীর অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এই নীতিগত বিরোধ এখন তড়িগড়ি আন্দোলনের রূপ নিয়েছে, যেখানে নীতিনির্ধারকদের পদত্যাগের দাবি ওঠার পাশাপাশি আরও কঠোর প্রতিবাদের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩০ ভবনের সামনে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ক্ষোভের প্রকাশ ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে প্রকাশ্যে এ আন্দোলনের সমর্থন জানানো হয়। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, অর্থ উপদেষ্টার সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সংঘটিত এই প্রতিবাদ সভা সংগঠিত হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের শ্রমিক সংগঠন অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের ব্যানারে।

সংগঠনের সভাপতি এ কে এম মাসুম বিল্লাহ বলেন, অর্থ উপদেষ্টার দ্বিমুখী পরিস্থিতি গভীরভাবে সমালোচনীয়। তিনি জানান, অর্ডার সংশোধন প্রস্তাবের প্রেরণার সময় একই উর্ধ্বতন কর্মকর্তা তখনো তার সমর্থন করলেও, পরে গভর্নরের কাছে সেইই কর্মকর্তার পক্ষ পরিবর্তন হয়ে যায়। তিনি বলেন, “তিনি আমাদের জানিয়েছেন যে, কোনও প্রক্রিয়া ছাড়াই সংশোধনী বাতিল করা হয়েছে। এই দ্বিমুখী অবস্থানের কারণে আমরা তার পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছি এবং চাই তিনি দ্রুত পদত্যাগ করুন।” পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন নির্বাচনে মেন্ডেটধারী দলগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং নির্বাচন শেষে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবে।

সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ বলেন, আর্থিক খাতের সুশাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশোধিত অর্ডার পাঠানো হলেও তা কার্যকর বা বাস্তবায়নে কোনও অগ্রগতি দেখা যায়নি। তিনি আরো বলেন, “৯ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশোধনী প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু এখনও তা সংবিধানিক ও আইনী কাঠামোতে প্রণীত হয়নি। ফলে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে গভীর হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম হয়েছে।” তিনি দুই পক্ষের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে জানিয়েছেন, কার্যকর স্বায়ত্তশাসন ছাড়া ব্যাংকের পেশাদারিত্ব বজায় রাখা সম্ভব নয়।

সংক্ষেপে, দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা ও আইনী শাসনের গুরুত্ব নিয়ে চলমান এই আন্দোলন আরও বৃহৎ আকার ধারণ করছে।