বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরে ঢাকা শীর্ষে: স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নগরবাসী

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬

বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণের তালিকায় আবারও শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে আটটার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহর হিসেবে ঢাকার অবস্থান ছিল প্রথমে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বায়ু মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার ভিজুয়ালের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউआई) থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা গেছে। সংগৃহীত তথ্যে দেখা গেছে, সকাল ৮:২০ এর সময় ঢাকার স্কোর ছিল ২৮৩, যা খুবই বিপজ্জনক পর্যায়ের নির্দেশ করে। এই বাতাসের মান নগরবাসীর জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ এবং স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঢাকার পরে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি, যেখানে একিউআই স্কোর ছিল ২৫৬। তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে কুয়েতের রাজধানী কুয়েত সিটি। বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর এই তালিকায় এরপর মান্যতা পায় পাকিস্তানের লাহোর, মিশরের কায়রো ও মঙ্গোলিয়ার উলানবাটর। অন্যদিকে, বিশ্বের সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর বাতাসের শহর হিসেবে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল, যেখানে একিউআই ছিল মাত্র ৬। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পোর্টল্যান্ড, চিলির সান্তিয়াগো, গ্রিসের এথেন্স এবং হিউস্টনকেও উল্লেখ করা হয়, যাদের বাতাস অনেক পরিষ্কার।

বায়ু মান সূচক অনুযায়ী, স্কোর ৫০ এর নিচে হলে বাতাসকে ‘ভালো’, ৫০-১০০ এর মধ্যে হলে ‘মধ্যম মানের’, ১০১-১৫০ হলে ‘সতর্কতামূলক’, ১৫১-২০০ হলে ‘অস্বাস্থ্যকর’, আর ৩০১ এর বেশি হলে ‘চরম অস্বাস্থ্যকর’ বা বিপজ্জনক ধরা হয়। আজকের ঢাকার স্কোর ২৮৩ হওয়ায় বুঝা যায় যে এ শহরের বাতাস এখন ‘চরম অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। শীতকালীন শুষ্ক আবহাওয়া, ধুলাবালি, যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং উন্নয়নমূলক কাজের ধুলা-বালি এই বিপজ্জনক পরিস্থিতির মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের দূষিত পরিবেশে দীর্ঘ সময় বসবাস করলে ফুসফুসের বিভিন্ন জটিলতা, শ্বাসকষ্ট ও মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণদের এই ঝুঁকি আরও বেশি। আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান ও একিউআই এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় ৭০ লাখ মানুষ বায়ুদূষণে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ঢাকার এই বিপজ্জনক পরিস্থিতির দ্রুত অবসান ঘটাতে পর্শবরর্তি কার্যকর পদক্ষেপের আর্জি জানাচ্ছে পরিবেশবাদীরা, যাতে শহরবাসীর জীবন ও স্বাস্থ্যের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি রোধ সম্ভব হয়।