ফ্রান্সের কাছ থেকে ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কিনছে ভারত Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৫:০৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ প্রতিরক্ষা খাতে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়াতে এক বিশাল চুক্তির পথে হাঁটছে ভারত। ফ্রান্সের কাছ থেকে ১১৪টি অত্যাধুনিক রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। এই মেগা প্রকল্পের জন্য প্রাথমিক বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ২৫ লক্ষ কোটি রুপি। এই চুক্তিটিকে বর্তমান সময়ের অন্যতম বৃহত্তম সামরিক বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মূলত ভারতের আকাশসীমার নিরাপত্তা আরও সুসংহত করা এবং বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৮ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারতে অনুষ্ঠিতব্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে আসছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ফরাসি প্রেসিডেন্টের এই সফরের আগেই যাবতীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এ সংক্রান্ত বিষয়ে আগামী সপ্তাহে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমরাস্ত্র ক্রয় বিষয়ক সর্বোচ্চ অঙ্গসংস্থা ‘ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল’ (ডিএকে)-এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন বলে নিশ্চিত করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র। জানা গেছে, ১১৪টি যুদ্ধবিমানের মধ্যে প্রথম ১৮টি সরাসরি ফ্রান্স থেকে তৈরি অবস্থায় বা ‘ফ্লাইং কন্ডিশনে’ সরবরাহ করা হবে। অবশিষ্ট ৯৬টি বিমান ভারতের মাটিতেই দেশীয় প্রযুক্তির সমন্বয়ে যৌথভাবে তৈরি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা ভারতের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন গতি সঞ্চার করবে। এই বিশাল বহরের মধ্যে ৮৮টি যুদ্ধবিমান হবে একক পাইলটবিশিষ্ট এবং বাকি ২৬টিতে দুই জন পাইলটের বসার ব্যবস্থা থাকবে। বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও শক্তিশালী বহুমুখী যুদ্ধবিমান হিসেবে স্বীকৃত রাফাল ইতিমধ্যে ভারতীয় বিমানবাহিনীর আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। পঞ্চম প্রজন্মের কাছাকাছি বৈশিষ্ট্যের এই যুদ্ধবিমান ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭০০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে সক্ষম এবং এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫০ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত সফল অপারেশন চালাতে পারে। এর আগে ২০২০ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করেছিল ভারত, যার কার্যকারিতা ও কারিগরি সক্ষমতায় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন ‘নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিগোষ্ঠী’ (সিসিএস) আরও বড় পরিসরে এই যুদ্ধবিমান সংগ্রহের সবুজ সংকেত দেয়। ভারী অস্ত্রশস্ত্র ও বিভিন্ন পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম রাফালের এই নতুন অন্তর্ভুক্তি দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের আকাশসীমার নিরাপত্তাকে এক অভেদ্য স্তরে নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সামরিক বিশ্লেষকরা। এই চুক্তির মাধ্যমে ফ্রান্স ও ভারতের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: