বিএনপির নতুন ষড়যন্ত্র: জালভোটের জন্য বোরকা-নিখাব প্রস্তুত দল Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৩:৩৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬ বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন স্পষ্ট করে বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দল পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন প্রভাবিত করার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করছে। তিনি জানান, লক্ষ্মীপুরে সেই দলের কিছু নেতার বিরুদ্ধে ভোটের সিল তৈরি ও জালিয়াতির জন্য ভুয়া সিল ব্যবহারের ঘটনা সামনে এসেছে, যা তাদের এই ষড়যন্ত্রের প্রমাণ। তিনি শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। মাহদী আমিন বলেন, আমরা অবাক হচ্ছি, লক্ষ্মীপুরে অবৈধ ছয়টি সিল উদ্ধার ও জব্দকৃত নানা আলামত বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, এগুলোর জন্য একটি প্রিন্টিং প্রেসের মালিক স্বীকারোক্তি দিয়েছেন যে, সব কিছুই জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার নির্দেশে করা হয়েছে। এই সংঘবদ্ধ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অর্ডার ও যোগাযোগের প্রমাণ, এমনকি সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার তথ্যও এখনও তদন্তে উঠে এসেছে। এটি স্পষ্ট করে বোঝায় যে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। আমরা যথাযথ আইনের আওতায় সবাইকে বিচার করার দাবি জানাই। এছাড়াও, নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে নারী ভোটাররাও যেন নিরাপদে উপস্থিত থাকেন এবং পর্যাপ্ত নারী পোলিং অফিসার নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। আইন অনুযায়ী মুখবিশেষের মুখ খুলে ভোটার পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে নির্দেশ দিয়েছে, ভোটের সময় স্বাভাবিকভাবে মুখ দেখা বাধ্যতামূলক, বিশেষ করে নারী ভোটারদের ক্ষেত্রেও। সব রাজনৈতিক দলের জন্যই নারীমুখো ভোটিং এজেন্ট নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ, যেন স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হয়। মাহদী আমিন অভিযোগ করেন, এই দলের বাড়ি বাড়ি গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহের মতো জালিয়াতির চেষ্টা চলছে, যা ভবিষ্যতে জাল ভোটের সম্ভাবনাকে উসকে দিতে পারে। তারা অতিরিক্ত ব্যালট ছাপানোরও প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তথ্য পেয়েছেন তিনি। রাজধানীর পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে এক নেতার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১৫২টি ক্রিকেট স্ট্যাম্প জব্দ করা হয়েছে, যা দেখিয়ে দেয়, তারা নির্বাচনের ছত্রছায়ায় কঠোর সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার পরিকল্পনা করছে কি না, সেটি নজরদারিতে রাখা জরুরি। এছাড়া, বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা নির্বাচনে পর্যবেক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অসঙ্গতিই প্রকাশ পেয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, নামের জন্য অখ্যাত একটি প্রতিষ্ঠান ‘পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট’ (পাশা) সবচেয়ে বেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগের অনুমতি পেয়েছে, যেখানে দেখা গেছে, তার নিয়মিত অফিসও নেই। এর মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলছেন, এসব বিষয় স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বড় ধরনের বাধা। তাই, তিনি আবারো নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি ও অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী দিনের নির্বাচনি জনসভাগুলিতে অংশ নেবেন বলেও ঘোষণা দেন। জানিয়েছেন, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন আসনে তিনি বিভিন্ন সময়ে জনসভায় বক্তব্য প্রদান করবেন। উল্লেখ করেন, রোববার তিনি ঢাকা-১৭, ঢাকা-১৬, ঢাকা-১৫, ঢাকা-১৪, ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১১ আসনের নির্বাচনি জনসভায় ভাষণ দেবেন। এছাড়া, সোমবার বাকিগুলোতেও অংশ নেবেন। তারেক রহমানের এই জনসভাগ ও প্রচারণার মাধ্যমে তারা নির্বাচনে ব্যাপক সমর্থন বাড়াতে চাচ্ছেন। SHARES রাজনীতি বিষয়: