বাংলাদেশ ব্যাংক উত্তরা ফাইন্যান্সের বোর্ড বিলুপ্ত করল, নতুন পরিচালনা পরিষদ গঠন

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬

আর্থিক অনিয়মের কারণে দীর্ঘ সময় সংকটে থাকা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ অবশেষে বিলুপ্ত করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই সিদ্ধান্তের পর, কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন একটি পরিচালনা পরিষদ গঠন করেছে, যা কোম্পানিটির স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে কোম্পানিটি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ফাইন্যান্সিয়াল কোম্পানি আইনের (২০২৩) অধীনে, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় পাঁচজন নতুন পরিচালক নিয়োগ দিয়েছেন। নবগঠিত এই পরিচালনা পরিষদে মো. মুখতার হোসেনকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে, যা স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অন্য স্বতন্ত্র পরিচালকরা হলেন মোহাম্মদ শাফিউল আজম, মো. নিয়ামুল কবির ও মো. রফিকুল ইসলাম (এফসিএস)। এছাড়া, মো. মাহবুব আলমকেও পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্র জানায়, “আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সুশাসন ও কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনার কারণে এই পরিবর্তন জরুরি হয়েছে। নতুন পরিচালনা পরিষদের মাধ্যমে উত্তরা ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।”

অর্থ প্রতিষ্ঠান হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরও উত্তরা ফাইন্যান্স ২০১৯ সাল থেকে নিয়মিতভাবে অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে না। তবে, ২০২০ সালের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই বছরটির শেষে কোম্পানির সুদ বাবদ লোকসান ৬১ কোটি ১৮ লাখ টাকা এবং পরিচালন লোকসান ১০৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা ছিল। সব ব্যয় মুক্ত করার পরে কোম্পানিটির করোত্তর নিট লোকসান দাঁড়িয়েছিল ৪৩৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। সংকটকালীন সময়ে এই পরিমাণ লোকসান আর্থিক মানদণ্ডে şirkটিকে বেশ কঠিনভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালের হিসাব বছর শেষে কোম্পানির মূলধন ঘাটতি ছিল ৭১১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, যার মধ্যে যোগ্য মূলধন ঘাটতি ৫৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় মূলধনের ঘাটতি ছিল ৬৫২ কোটি ২১ লাখ টাকা। এই পরিস্থিতিতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয় যেন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভিত্তি मजबूत হয়, অব্যবস্থাপনা সুস্থির হয় এবং প্রতিষ্ঠানটি স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হতে পারে। নতুন বোর্ডের দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে আমানতকারীর স্বার্থ রক্ষা ও প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে সংশ্লিষ্টরা।