উন্নয়নের স্বার্থে ধানের শীষে ভোট দিন: নূরুল ইসলাম মনি

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬

বরগুনা-২ (বেতাগী, বামনা, পাথরঘাটা) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে না। তারা সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য, দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করে। তাই সবাইকে অনুরোধ করেন, উন্নয়নের স্বার্থে ধানের শীষে ভোট দিন। এই ভোটের মাধ্যমে দেশকে আরও সমৃদ্ধশালী করা সম্ভব।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) পাথরঘাটার ৭ নং কাঠালতলী ইউনিয়নের তালুক চরদুয়ানী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নিজ এলাকার উন্নয়নের দিক দিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরুলেও যদি আমি অন্যদের চেয়ে বেশি উন্নয়ন করে থাকি, তাহলে আমি হয়তো সবার আগে ধানের শীষে ভোট পাবেন। যতজন এই এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের চেয়ে যদি আমি বেশি চাকরি দিয়ে থাকি, তাহলে অবশ্যই ধানের শীষে ভোট দিন। আমি এই এলাকার উন্নয়নে জীবন ও যৌবনকে উৎসর্গ করে এসেছি, এখনো করার জন্য প্রস্তুত আছি।

নূরুল ইসলাম মনি হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই-বোনদের জন্য স্পষ্ট ঘোষণা দেন, তারা জীবন, জানমাল ও ধর্মের নিরাপত্তা চায়। তিনি বলেন, যদি আগামী নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসে এবং আমি এমপি হয়ে থাকি, তবে বরগুনা-২ আসনে সব হিন্দু ভাই-বোনের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছর এই এলাকায় নিজেদের মূল্যবান ভোট প্রদান করতে পারেননি। তবুও তারা দিনে-রাতে ভোট দিয়ে নিজেদের গণতন্ত্র রক্ষা করেছে। আর যারা স্বৈরতন্ত্রের পতাকা উড়িয়েছে, তারা এখন দেশের মালিকানা চাচ্ছে। গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যেতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, এই আসনে তার সময়ে কখনো চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি। তিনি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, রাস্তা-ঘাট ও বিদ্যুতের উন্নয়নে অবদান রেখেছেন। জেলেদের জন্য চালের কার্ড করেছেন, সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সচেষ্ট রয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, এবারও এই এলাকার মানুষ তার কর্মের মূল্যায়ন করবেন। যেহেতু তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করে চলেছেন, তাই তাদের ভোটে বিজয়ী হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

নূরুল ইসলাম মনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রত্যেক পরিবার নিয়ম অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড পাবে, যার মাধ্যমে তারা সব মৌলিক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। অন্যদিকে, কিছু দল জান্নাতের টিকিট বিক্রি করছে বলে আক্ষেপ করে বলেন, তারা নিজেরাও জান্নাতে যাবে কিনা, কেউ বলতে পারে না। জনগণ আর ভুলবেন না, যারা এই বাংলাটাকে সুন্দর করতে চায় না, তারা দেশের মালিকানা চাচ্ছে। তাদের ভণ্ডামি ও অন্যায় কথাবার্তায় মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে। ধর্ম নিয়ে তারা অপপ্রচার চালাচ্ছে, যা দেশ ও ধর্মপ্রাণ জনগণের জন্য ক্ষতিকারক। তারা এসব অবিশ্বাস্য ও আপত্তিজনক কথাবার্তা দিয়ে দেশের মানুষ থেকে বয়কটের ডাক দিচ্ছে।

জনসভায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতারা ছাড়াও ব্যাপক সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পুরো মাঠ ছিল উৎসবমুখর, নির্বাচনী আবেগের মধ্যে আবদ্ধ।