বাংলাদেশকে বিভক্ত হতে দেওয়া হবে না: জামায়াত আমীরের ঘোষণা

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী নির্বাচন ও ভবিষ্যতের দেশ পরিচালনায় যদি সুযোগ পান, তাহলে একটি ন্যায্য, ইনসাফপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করবেন যেখানে আইন সব মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। বিচার ব্যবস্থা কখনোই অর্থের কাছে বিক্রি হবে না এবং দুর্নীতি ও অনাচার সহ্য করবেন না। শনিবার সকালে হবিগঞ্জের নিউফিল্ড মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। আমীর এর মাধ্যমে তিনি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন, তা হলো— বাংলাদেশকে আর কোনোভাবেই বিভক্ত করা হবে না। তাদের মূল লক্ষ্য হলো একটি ঐক্যবদ্ধ, সমৃদ্ধ ও সামরিকভাবে শক্তিশালী দেশ গড়ে তোলা।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, যারা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এবং ন্যায়ের পক্ষে সমাজে সত্যের প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে চান, তাদের উচিত সব সময় ইনসাফের পক্ষে ভোট দেওয়া। তিনি আক্ষেপ করে উল্লেখ করেন, বর্তমানে বিচার ব্যবস্থা অনেকটাই কলুষিত হচ্ছে। তবে জামায়াত যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে প্রতিটি নাগরিকের ন্যায্য বিচার নিশ্চিত হবে। তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে তারা চায় যেখানে কোনো জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক নেতা চরিত্রহানির নোংরা রাজনীতিতে লিপ্ত হবেন না, বরং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। নির্বাচনের সময় সাক্ষী থাকবেন, জনপ্রতিনিধি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা তাদের আয়-ব্যয় সবার সামনে প্রকাশ করবেন।

জামায়াতের আমীর রাজনীতি পেশা হিসেবে ব্যবহারের কড়া সমালোচনা করে বলেন, জামায়াতের কাছে রাজনীতি কোনো অর্থ উপার্জনের মাধ্যম নয়, বরং এটি একটি মহান দায়িত্ব। যারা রাজনীতিকে পেশা হিসেবে নেয়, তারা মূলত দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত হয়। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশের সব ধরণের চাঁদাবাজি বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং ব্যবসায়ীদের জানমাল সম্পূর্ণভাবে নিরাপদ থাকবে। তারা যেন নিশ্চিন্তে ব্যবসা চালাতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করা হবে।

জনতার মধ্যে দেশপ্রেম ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের সম্পদ ও রাস্তা-ঘাট লুটপাট রোখার জন্য সততা ও যোগ্য নেতাদের প্রয়োজন। হবিগঞ্জের এই জনসভায় দলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সকাল থেকে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে সমাবেশটি প্রফুল্লতা ও উদ্দীপনায় মুখরিত হয়ে ওঠে। এই বক্তব্য স্থানীয় ভোটারদের মনে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মূলত, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় জামায়াত তাদের নির্বাচন প্রচারণা জোরদার করছে, যাতে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের সুখ-শান্তি নিশ্চিত হয়।